কখন ঘুমিয়েছিনু, জেগে উঠে দেখিলাম-- কমলালেবুর ঝুড়ি পায়ের কাছেতে কে গিয়েছে রেখে। কল্পনায় ডানা মেলে অনুমান ঘুরে ঘুরে ফিরে একে একে নানা স্নিগ্ধ নামে। স্পষ্ট জানি না'ই জানি, এক অজানারে লয়ে নানা নাম মিলিল আসিয়া নানা দিক হতে। এক নামে সব নাম সত্য হয়ে উঠি দানের ঘটায়ে দিল পূর্ণ সার্থকতা।
আমি এ পথের ধারে একা রই-- যেতে যেতে যাহা-কিছু ফেলে রেখে গেছ মোর দ্বারে মূল্য তার হোক-না যতই তাহে মোর দেনা পরিশোধ কখনো হবে না। দেব ব'লে যাহা কভু দেওয়া নাহি যায়, চেয়ে যাহা কেহ নাহি পায়, যে ধনের ভাণ্ডারের চাবি আছে অন্তর্যামী কোন্ গুপ্ত দেবতার কাছে কেহ নাহি জানে-- আগন্তুক, অকস্মাৎ সে দুর্লভ দানে ভরিল তোমার হাত অন্যমনে পথে যাতায়াতে। পড়ে ছিল গাছের তলাতে দৈবাৎ বাতাসে ফল, ক্ষুধার সম্বল। অযাচিত সে সুযোগে খুশি হয়ে একটুকু হেসো; তার বেশি দিতে যদি এসো, তবে জেনো মূল্য নেই মূল্য তার নেই। দূরে যাও, ভুলে যাও ভালো সেও-- তাহারে কোরো না হেয় দানস্বীকারের ছলে দাতার উদ্দেশে কিছু রেখে ধূলিতলে।
সে যে পাশে এসে বসেছিল তবু জাগি নি। কী ঘুম তোরে পেয়েছিল হতভাগিনী। এসেছিল নীরব রাতে বীণাখানি ছিল হাতে, স্বপনমাঝে বাজিয়ে গেল গভীর রাগিণী। জেগে দেখি দখিন-হাওয়া পাগল করিয়া গন্ধ তাহার ভেসে বেড়ায় আঁধার ভরিয়া। কেন আমার রজনী যায়-- কাছে পেয়ে কাছে না পায় কেন গো তার মালার পরশ বুকে লাগি নি।