ফসল গিয়েছে পেকে, দিনান্ত আপন চিহ্ন দিল তারে পাণ্ডূর আভায়। আলোকের ঊর্ধ্বসভা হতে আসন পড়িছে নুয়ে ভূতলের পানে। যে মাটির উদ্বোধন বাণী জাগায়েছে তারে একদিন, শোনো আজি তাহারই আহ্বান আসন্ন রাত্রির অন্ধকারে। সে মাটির কোল হতে যে দান নিয়েছে এতকাল তার চেয়ে বেশি প্রাণ কোথাও কি হবে ফিরে দেওয়া কোনো নব জন্মদিনে নব সূর্যোদয়ে!
তুমি এবার আমায় লহো হে নাথ,লহো। এবার তুমি ফিরো না হে-- হৃদয় কেড়ে নিয়ে রহো। যে দিন গেছে তোমা বিনা তারে আর ফিরে চাহি না, যাক সে ধুলাতে। এখন তোমার আলোয় জীবন মেলে যেন জাগি অহরহ। কী আবেশে কিসের কথায় ফিরেছি হে যথায় তথায় পথে প্রান্তরে, এবার বুকের কাছে ও মুখ রেখে তোমার আপন বাণী কহো। কত কলুষ কত ফাঁকি এখনো যে আছে বাকি মনের গোপনে, আমায় তার লাগি আর ফিরায়ো না, তারে আগুন দিয়ে দহো।
কীর্তনের সুর ভালোবেসে সখী, নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখিয়ো--তোমার মনের মন্দিরে। আমার পরানে যে গান বাজিছে তাহারি তালটি শিখিয়ো--তোমার চরণমঞ্জীরে। ধরিয়া রাখিয়ো সোহাগে আদরে আমার মুখর পাখিটি--তোমার প্রাসাদপ্রাঙ্গণে। মনে ক'রে সখী, বাঁধিয়া রাখিয়ো আমার হাতের রাখীটি--তোমার কনককঙ্কণে। আমার লতার একটি মুকুল ভুলিয়া তুলিয়া রাখিয়ো--তোমার অলকবন্ধনে। আমার স্মরণ-শুভ-সিন্দুরে একটি বিন্দু আঁকিয়ো--তোমার ললাটচন্দনে। আমার মনের মোহের মাধুরী মাখিয়া রাখিয়া দিয়ো গো--তোমার অঙ্গসৌরভে। আমার আকুল জীবনমরণ টুটিয়া লুটিয়া নিয়ো গো--তোমার অতুল গৌরবে।