আমার কীর্তিরে আমি করি না বিশ্বাস। জানি, কালসিন্ধু তারে নিয়ত তরঙ্গঘাতে দিনে দিনে দিবে লুপ্ত করি। আমার বিশ্বাস আপনারে। দুই বেলা সেই পাত্র ভরি এ বিশ্বের নিত্যসুধা করিয়াছি পান। প্রতি মুহূর্তের ভালোবাসা তার মাঝে হয়েছে সঞ্চিত। দুঃখভারে দীর্ণ করে নাই, কালো করে নাই ধূলি শিল্পেরে তাহার। আমি জানি, যাব যবে সংসারের রঙ্গভূমি ছাড়ি, সাক্ষ্য দেবে পুষ্পবন ঋতুতে ঋতুতে এ বিশ্বেরে ভালোবাসিয়াছি। এ ভালোবাসাই সত্য, এ জন্মের দান। বিদায় নেবার কালে এ সত্য অম্লান হয়ে মৃত্যুরে করিবে অস্বীকার।
কেমনে কী হল পারি নে বলিতে, এইটুকু শুধু জানি-- নবীন কিরণে ভাসিছে সে দিন প্রভাতের তনুখানি। বসন্ত তখনো কিশোর কুমার, কুঁড়ি উঠে নাই ফুটি, শাখায় শাখায় বিহগ বিহগী বসে আছে দুটি দুটি। কী যে হয়ে গেল পারি নে বলিতে, এইটুকু শুধু জানি-- বসন্তও গেল, তাও চলে গেল একটি না কয়ে বাণী। যা-কিছু মধুর সব ফুরাইল, সেও হল অবসান-- আমারেই শুধু ফেলে রেখে গেল সুখহীন ম্রিয়মাণ।