ও আমার অভিমানী মেয়ে ওরে কেউ কিছু বোলো না। ও আমার কাছে এসেছে, ও আমায় ভালো বেসেছে, ওরে কেউ কিছু বোলো না। এলোথেলো চুলগুলি ছড়িয়ে ওই দেখো সে দাঁড়িয়ে রয়েছে, নিমেষহারা আঁখির পাতা দুটি চোখের জলে ভরে এয়েছে। গ্রীবাখানি ঈষৎ বাঁকানো, দুটি হাতে মুঠি আছে চাপি, ছোটো ছোটো রাঙা রাঙা ঠোঁট ফুলে ফুলে উঠিতেছে কাঁপি। সাধিলে ও কথা কবে না, ডাকিলে ও আসিবে না কাছে, ও সবার 'পরে অভিমান করে আপ্না নিয়ে দাঁড়িয়ে শুধু আছে। কী হয়েছে কী হয়েছে বলে বাতাস এসে চুলিগুলি দোলায়; রাঙা ওই কপোলখানিতে রবির হাসি হেসে চুমো খায়। কচি হাতে ফুল দুখানি ছিল রাগ করে ঐ ফেলে দিয়েছে- পায়ের কাছে পড়ে পড়ে তারা মুখের পানে চেয়ে রয়েছে। আয় বাছা, তুই কোলে ব'সে বল্ কী কথা তোর বলিবার আছে, অভিমানে রাঙা মুখখানি আন দেখি তুই এ বুকের কাছে। ধীরে ধীরে আধো আধো বল্ কেঁদে কেঁদে ভাঙা ভাঙা কথা, আমায় যদি না বলিবি তুই কে শুনিবে শিশু-প্রাণের ব্যথা।
যখনি যেমনি হোক জিতেনের মর্জি কথায় কথায় তার লাগে আশ্চর্যি। অডিটর ছিল জিতু হিসাবেতে টঙ্ক, আপিসে মেলাতেছিল বজেটের অঙ্ক; শুনলে সে, গেছে দেশে রামদীন দর্জি, শুনতে না-শুনতেই বলে 'আশ্চর্যি'। যে দোকানি গাড়ি তাকে করেছিল বিক্রি কিছুতে দাম না পেয়ে করেছে সে ডিক্রি, বিস্তর ভেবে জিতু উঠল সে গর্জি-- 'ভারি আশ্চর্যি'। শুনলে, জামাইবাড়ি ছিল বুড়ি ঝিনাদায়, ছ বছর মেলেরিয়া ভুগে ভুগে চিনা দায়, সেদিন মরেছে শেষে পুরোনো সে ওর ঝি, জিতেন চশমা খুলে বলে 'আশ্চর্যি'।