বিকেলবেলার দিনান্তে মোর পড়ন্ত এই রোদ পুবগগনের দিগন্তে কি জাগায় কোনো বোধ? লক্ষকোটি আলোবছর-পারে সৃষ্টি করার যে বেদনা মাতায় বিধাতারে হয়তো তারি কেন্দ্র-মাঝে যাত্রা আমার হবে-- অস্তবেলার আলোতে কি আভাস কিছু রবে?
এ হতভাগারে ভালো কে বাসিতে চায়? সুখ-আশা থাকে যদি বেসো না আমায়! এ জীবন, অভাগার -- নয়ন সলিলধার বলো সখি কে সহিতে পারিবে তা হায়! এ ভগ্নপ্রাণের অতি বিষাদের গান বলো সখি কে শুনিতে পারে সারা প্রাণ গেছি ভুলে ভালোবাসা -- ছাড়িয়াছি সুখ-আশা ভালোবেসে কাজ নাই স্বজনি আমায়!
যখন ছিলেম পথেরই মাঝখানে মনটা ছিল কেবল চলার পানে বোধ হত তাই, কিছুই তো নাই কাছে-- পাবার জিনিস সামনে দূরে আছে। লক্ষ্যে গিয়ে পৌঁছব এই ঝোঁকে সমস্ত দিন চলেছি এক-রোখে। দিনের শেষে পথের অবসানে মুখ ফিরে আজ তাকাই পিছু-পানে। এখন দেখি পথের ধারে ধারে পাবার জিনিস ছিল সারে সারে-- সামনে ছিল যে দূর সুমধুর পিছনে আজ নেহারি সেই দূর।