ঝাঁকড়া চুলের মেয়ের কথা কাউকে বলি নি, কোন্ দেশে যে চলে গেছে সে-চঞ্চলিনী। সঙ্গী ছিল কুকুর কালু, বেশ ছিল তার আলুথালু, আপনা-'পরে অনাদরে ধুলায় মলিনী। হুটোপাটি ঝগড়াঝাঁটি ছিল নিষ্কারণেই দিঘির জলে গাছের ডালে গতি ক্ষণে-ক্ষণেই। পাগলামি তার কানায় কানায়, খেয়াল দিয়ে খেলা বানায়, উচ্চহাসে কলভাষে কলকলিনী। দেখা হলে যখন-তখন বিনা অপরাধে মুখভঙ্গী করত আমায় অপমানের ছাঁদে। শাসন করতে যেমন ছুটি হঠাৎ দেখি ধুলায় লুটি' কাজল আঁখি চোখের জলে ছলছলিনী। আমার সঙ্গে পঞ্চাশবার জন্মশোধের আড়ি কথায় কথায় নিত্যকালের মতন ছাড়াছাড়ি। ডাকলে তারে "পুঁটলি' ব'লে সাড়া দিত মর্জি হলে, ঝগড়াদিনের নাম ছিল তার স্বর্ণনলিনী।
মিথ্যা আমি কী সন্ধানে যাব কাহার দ্বার। পথ আমারে পথ দেখাবে, এই জেনেছি সার। শুধাতে যাই যারি কাছে, কথার কি তার অন্ত আছে। যতই শুনি চক্ষে ততই লাগায় অন্ধকার। পথের ধারে ছায়াতরু নাই তো তাদের কথা, শুধু তাদের ফুল-ফোটানো মধুর ব্যাকুলতা। দিনের আলো হলে সারা অন্ধকারে সন্ধ্যাতারা শুধু প্রদীপ তুলে ধরে কয় না কিছু আর।