নিত্য তোমার পায়ের কাছে তোমার বিশ্ব তোমার আছে কোনোখানে অভাব কিছু নাই। পূর্ণ তুমি, তাই তোমার ধনে মানে তোমার আনন্দ না ঠেকে। তাই তো একে একে যা-কিছু ধন তোমার আছে আমার ক'রে লবে। এমনি করেই হবে এ ঐশ্বর্যে তব তোমার আপন কাছে, প্রভু, নিত্য নব নব। এমনি করেই দিনে দিনে আমার চোখে লও যে কিনে তোমার সূর্যোদয়। এমনি করেই দিনে দিনে আপন প্রেমের পরশমণি, আপনি যে লও চিনে আমার পরান করি হিরন্ময়।
মোর চেতনায় আদিসমুদ্রের ভাষা ওঙ্কারিয়া যায়; অর্থ তার নাহি জানি, আমি সেই বাণী। শুধু ছলছল কলকল; শুধু সুর, শুধু নৃত্য, বেদনার কলকোলাহল; শুধু এ সাঁতার-- কখনো এ পারে চলা, কখনো ও পার, কখনো বা অদৃশ্য গভীরে, কভু বিচিত্রের তীরে তীরে। ছন্দের তরঙ্গদোলে কত যে ইঙ্গিত ভঙ্গি জেগে ওঠে, ভেসে যায় চলে। স্তব্ধ মৌনী অচলের বহিয়া ইশারা নিরন্তর স্রোতোধারা অজানা সম্মুখে ধায়, কোথা তার শেষ কে জানে উদ্দেশ। আলোছায়া ক্ষণে ক্ষণে দিয়ে যায় ফিরে ফিরে স্পর্শের পর্যায়। কভু দূরে কখনো নিকটে প্রবাহের পটে মহাকাল দুই রূপ ধরে পরে পরে কালো আর সাদা। কেবলি দক্ষিণে বামে প্রকাশ ও প্রকাশের বাধা অধরার প্রতিবিম্ব গতিভঙ্গে যায় এঁকে এঁকে, গতিভঙ্গে যায় ঢেকে ঢেকে।