বনে যদি ফুটল কুসুম নেই কেন সেই পাখি। কোন্ সুদূরের আকাশ হতে আনব তারে ডাকি॥ হাওয়ায় হাওয়ায় মাতন জাগে, পাতায় পাতায় নাচন লাগে গো-- এমন মধুর গানের বেলায় সেই শুধু রয় বাকি॥ উদাস-করা হৃদয়-হরা না জানি কোন্ ডাকে সাগর-পারের বনের ধারে কে ভুলালো তাকে। আমার হেথায় ফাগুন বৃথায় বারে বারে ডাকে যে তায় গো-- এমন রাতের ব্যাকুল ব্যথায় কেন সে দেয় ফাঁকি॥
আমি যখন ছিলেম অন্ধ সুখের খেলায় বেলা গেছে, পাই নি তো আনন্দ ॥ খেলাঘরের দেয়াল গেঁথে খেয়াল নিয়ে ছিলেম মেতে, ভিত ভেঙে যেই এলে ঘরে ঘুচল আমার বন্ধ। সুখের খেলা আর রোচে না, পেয়েছি আনন্দ ॥ ভীষণ আমার, রুদ্র আমার,নিদ্রা গেল ক্ষুদ্র আমার-- উগ্র ব্যথায় নূতন ক'রে বাঁধলে আমার ছন্দ। যে দিন তুমি অগ্নিবেশে সব-কিছু মোর নিলে এসে সে দিন আমি পূর্ণ হলেম ঘুচল আমার দ্বন্দ্ব। দুঃখসুখের পারে তোমায় পেয়েছি আনন্দ ॥
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো রে ॥ যদি কেউ কথা না কয়, ওরে ওরে ও অভাগা, যদি সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে সবাই করে ভয়-- তবে পরান খুলে ও তুই মুখ ফুটে তোর মনের কথা একলা বলো রে ॥ যদি সবাই ফিরে যায়, ওরে ওরে ও অভাগা, যদি গহন পথে যাবার কালে কেউ ফিরে না চায়-- তবে পথের কাঁটা ও তুই রক্তমাখা চরণতলে একলা দলো রে ॥ যদি আলো না ধরে, ওরে ওরে ও অভাগা, যদি ঝড়-বাদলে আঁধার রাতে দুয়ার দেয় ঘরে-- তবে বজ্রানলে আপন বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে একলা জ্বলো রে ॥