একলা ব'সে একে একে অন্যমনে পদ্মের দল ভাসাও জলে অকারণে। হায় রে, বুঝি কখন তুমি গেছ ভুলে ও যে আমি এনেছিলেম আপনি তুলে, রেখেছিলেম প্রভাতে ওই চরণমূলে অকারণে-- কখন তুলে নিলে হাতে যাবার ক্ষণে অন্যমনে॥ দিনের পরে দিনগুলি মোর এমনি ভাবে তোমার হাতে ছিঁড়ে হারিয়ে যাবে। সবগুলি এই শেষ হবে যেই তোমার খেলায় এমনি তোমার আলস-ভরা অবহেলায় হয়তো তখন বাজবে ব্যথা সন্ধেবেলায় অকারণে-- চোখের জলের লাগবে আভাস নয়নকোণে অন্যমনে॥
আমি যাব না গো অমনি চলে। মালা তোমার দেব গলে॥ অনেক সুখে অনেক দুখে তোমার বাণী নিলেম বুকে, ফাগুনশেষে যাবার বেলা আমার বাণী যাব বলে॥ কিছু হল, অনেক বাকি। ক্ষমা আমায় করবে না কি। গান এসেছে সুর আসে নাই,হল না যে শোনানো তাই-- সে-সুর আমার রইল ঢাকা নয়নজলে॥
সুখের মাঝে তোমায় দেখেছি, দুঃখে তোমায় পেয়েছি প্রাণ ভ’রে। হারিয়ে তোমায় গোপন রেখেছি, পেয়ে আবার হারাই মিলনঘোরে।। চিরজীবন আমার বীণা-তারে তোমার আঘাত লাগল বারে বারে, তাই তো আমার নানা সুরের তানে প্রাণে তোমার পরশ নিলেম ধ’রে।। আজ তো আমি ভয় করি নে আর লীলা যদি ফুরায় হেথাকার। নূতন আলোয় নূতন অন্ধকারে লও যদি বা নূতন সিন্ধুপারে তবু তুমি সেই তো আমার তুমি– আবার তোমায় চিনব নূতন ক’রে।।