যারা বিহান-বেলায় গান এনেছিল আমার মনে সাঁঝের বেলায় ছায়ায় তারা মিলায় ধীরে। একা বসে আছি হেথায় যাতায়াতের পথের তীরে, আজকে তারা এল আমার স্বপ্নলোকের দুয়ার ঘিরে। সুরহারা সব ব্যথা যত একতারা তার খুঁজে ফিরে। প্রহর-পরে প্রহর যে যায়, বসে বসে কেবল গণি নীরব জপের মালার ধ্বনি অন্ধকারের শিরে শিরে॥
পান্থ তুমি, পান্থজনের সখা হে, পথে চলাই সেই তো তোমায় পাওয়া। যাত্রাপথের আনন্দগান যে গাহে তারি কণ্ঠে তোমারি গান গাওয়া ॥ চায় না সে জন পিছন-পানে ফিরে, বায় না তরী কেবল তীরে তীরে, তুফান তারে ডাকে অকূল নীরে যার পরানে লাগল তোমার হাওয়া ॥ পান্থ তুমি, পান্থজনের সখা হে, পথিকচিত্তে তোমার তরী বাওয়া। দুয়ার খুলে সমুখ-পানে যে চাহে তার চাওয়া যে তোমার পানে চাওয়া। বিপদ বাধা কিছুই ডরে না সে, রয় না পড়ে কোনো লাভের আশে, যাবার লাগি মন তারি উদাসে-- যাওয়া সে যে তোমার পানে যাওয়া ॥