হে ধরণী, জীবের জননী, শুনেছি যে মা তোমায় বলে, তবে কেন তোর কোলে সবে কেঁদে আসে, কেঁদে যায় চলে। তবে কেন তোর কোলে এসে সন্তানের মেটে না পিয়াসা। কেন চায়, কেন কাঁদে সবে, কেন কেঁদে পায় না ভালোবাসা। কেন হেথা পাষাণ-পরান, কেন সবে নীরস নিষ্ঠুর, কেঁদে কেঁদে দুয়ারে যে আসে কেন তারে করে দেয় দূর। কাঁদিয়া যে ফিরে চলে যায় তার তরে কাঁদিস নে কেহ, এই কি মা, জননীর প্রাণ, এই কি মা, জননীর স্নেহ!
প্রভাতে প্রভাতে পাই আলোকের প্রসন্ন পরশে অস্তিত্বের স্বর্গীয় সম্মান, জ্যোতিঃস্রোতে মিশে যায় রক্তের প্রবাহ, নীরবে ধ্বনিত হয় দেহে মনে জ্যোতিষ্কের বাণী। রহি আমি দু চক্ষুর অঞ্জলি পাতিয়া প্রতিদিন ঊর্ধ্ব-পানে চেয়ে। এ আলো দিয়েছে মোরে জন্মের প্রথম অভ্যর্থনা, অস্তসমুদ্রের তীরে এ আলোর দ্বারে রবে মোর জীবনের শেষ নিবেদন। মনে হয়, বৃথা বাক্য বলি, সব কথা বলা হয় নাই; আকাশবাণীর সাথে প্রাণের বাণীর সুর বাঁধা হয় নাই পূর্ণ সুরে, ভাষা পাই নাই।