যখনি যেমনি হোক জিতেনের মর্জি কথায় কথায় তার লাগে আশ্চর্যি। অডিটর ছিল জিতু হিসাবেতে টঙ্ক, আপিসে মেলাতেছিল বজেটের অঙ্ক; শুনলে সে, গেছে দেশে রামদীন দর্জি, শুনতে না-শুনতেই বলে 'আশ্চর্যি'। যে দোকানি গাড়ি তাকে করেছিল বিক্রি কিছুতে দাম না পেয়ে করেছে সে ডিক্রি, বিস্তর ভেবে জিতু উঠল সে গর্জি-- 'ভারি আশ্চর্যি'। শুনলে, জামাইবাড়ি ছিল বুড়ি ঝিনাদায়, ছ বছর মেলেরিয়া ভুগে ভুগে চিনা দায়, সেদিন মরেছে শেষে পুরোনো সে ওর ঝি, জিতেন চশমা খুলে বলে 'আশ্চর্যি'।
১৮১ কাজ সে তো মানুষের, এই কথা ঠিক। কাজের মানুষ, কিন্তু ধিক্ তারে ধিক্॥ অবকাশ কর্ম্মে খেলে আপনারি সঙ্গে, সিন্ধুর স্তব্ধতা খেলে সিন্ধুর তরঙ্গে॥ প্রাণেরে মৃত্যুর ছাপ মূল্য করে দান, প্রাণ দিয়া লভি তাই যাহা মূল্যবান॥ রস যেথা নাই সেথা যত কিছু খোঁচা, মরুভূমে জন্মে শুধু কাঁটাগাছ বোঁচা॥ দর্পণে যাহারে দেখি সেই আমি ছায়া, তারে লয়ে গর্ব্ব করি অপূর্ব্ব এ মায়া॥ আপনি আপনা চেয়ে বড়ো যদি হবে নিজেকে নিজের কাছে নত করো তবে॥ প্রেমেরে যে করিয়াছে ব্যবসার অঙ্গ প্রেম দূরে বসে বসে দেখে তার রঙ্গ॥ দুঃখেরে যখন প্রেম করে শিরোমণি তাহারে আনন্দ বলে চিনি তো তখনি॥ অমৃত যে সত্য, তা'র নাহি পরিমাণ, মৃত্যু তারে নিত্য নিত্য করিছে প্রমাণ॥