দুঃখ, তব যন্ত্রণায় যে দুর্দিনে চিত্ত উঠে ভরি দেহে মনে চতুর্দিকে তোমার প্রহরী রোধ করে বাহিরের সান্ত্বনার দ্বার, সেইক্ষণে প্রাণ আপনার নিগূঢ় ভাণ্ডার হতে গভীর সান্ত্বনা বাহির করিয়া আনে; অমৃতের কণা গলে আসে অশ্রুজলে; সে আনন্দ দেখা দেয় অন্তরের তলে যে আপন পরিপূর্ণতায় আপন করিয়া লয় দুঃখবেদনায়। তখন সে মহা-অন্ধকারে অনির্বাণ আলোকের পাই দেখা অন্তরমাঝারে। তখন বুঝিতে পারি আপনার মাঝে আপন অমরাবতী চিরদিন গোপনে বিরাজে।
কেন চেয়ে আছ, গো মা, মুখপানে! এরা চাহে না তোমারে চাহে না যে, আপন মায়েরে নাহি জানে। এরা তোমায় কিছু দেবে না, দেবে না-- মিথ্যা কহে শুধু কত কী ভানে। তুমি তো দিতেছ মা, যা আছে তোমারি-- স্বর্ণশস্য তব,জাহ্নবীবারি, জ্ঞান ধর্ম কত পুণ্যকাহিনী। এরা কী দেবে তোরে, কিছু না, কিছু না-- মিথ্যা কবে শুধু হীন পরানে! মনের বেদনা রাখো মা মনে, নয়নবারি নিবারো নয়নে, মুখ লুকাও মা, ধূলিশয়নে-- ভুলে থাকো যত হীন সন্তানে। শূন্য-পানে চেয়ে প্রহর গণি গণি দেখো কাটে কি না দীর্ঘ রজনী, দুঃখ জানায়ে কী হবে জননী, নির্মম চেতনহীন পাষাণে।