বজ্র যথা বর্ষণেরে আনে অগ্রসরি কে জানিত তব শোক সেইমতো করি আনি দিবে অকস্মাৎ জীবনে আমার বাধাহীন মিলনের নিবিড় সঞ্চার! মোর অশ্রুবিন্দুগুলি কুড়ায়ে আদরে গাঁথিয়া সীমন্তে পরি ব্যর্থশোক-'পরে নীরবে হানিছ তব কৌতুকের হাসি। ক্রমে সবা হতে যত দূরে গেলে ভাসি তত মোর কাছে এলে। জানি না কী করে সবারে বঞ্চিয়া তব সব দিলে মোরে। মৃত্যু-মাঝে আপনারে করিয়া হরণ আমার জীবনে তুমি ধরেছ জীবন, আমার নয়নে তুমি পেতেছ আলোক-- এই কথা মনে জানি নাই মোর শোক।
জানি দিন অবসান হবে, জানি তবু কিছু বাকি রবে। রজনীতে ঘুমহারা পাখি এক সুরে গাহিবে একাকী-- যে শুনিবে, যে রহিবে জাগি সে জানিবে, তারি নীড়হারা স্বপন খুঁজিছে সেই তারা যেথা প্রাণ হয়েছে বিবাগি। কিছু পরে করে যাবে চুপ ছায়াঘন স্বপনের রূপ। ঝরে যাবে আকাশকুসুম, তখন কূজনহীন ঘুম এক হবে রাত্রির সাথে। যে-গান স্বপনে নিল বাসা তার ক্ষীণ গুঞ্জন-ভাষা শেষ হবে সব-শেষ রাতে।