ও নিঠুর, আরো কি বাণ তোমার তূণে আছে? তুমি মর্মে আমায় মারবে হিয়ার কাছে? আমি পালিয়ে থাকি, মুদি আঁখি, আঁচল দিয়ে মুখ যে ঢাকি, কোথাও কিছু আঘাত লাগে পাছে। মারকে তোমার ভয় করেছি বলে তাই তো এমন হৃদয় ওঠে জ্বলে। যেদিন সে ভয় ঘুচে যাবে সেদিন তোমার বাণ ফুরাবে, মরণকে প্রাণ বরণ করে বাঁচে।
চপলারে আমি অনেক ভাবিয়া দূরেতে রাখিয়া এলেম তারে, রূপ-ফাঁদ হতে পালাইতে তার, প্রণয়ে ডুবাতে মদিরা-ধারে। এত দূরে এসে বুঝিনু এখন এখনো ঘুচে নি প্রণয়-ঘোর, মাথায় যদিও চড়েছে মদিরা প্রণয় রয়েছে হৃদয়ে মোর। যুবতীর শেষে লইনু শরণ মাগিনু সহায় তার, অনেক ভাবি সে কহিল তখন "চপলা নারীর সার।' আমি কহিলাম "সে কথা তোমার কহিতে হবে না মোরে-- দোষ যদি কিছু বলিবারে পারো শুনি প্রণিধান করে।' যুবতী কহিল "তাও কভু হয়? যদি বলি দোষ আছে-- নামের আমার কুযশ হইবে কহিনু তোমার কাছে।' এখন তো আর নাই কোনো আশা হইয়াছি অসহায়-- চপলা আমার মরমে মরমে বাণ বিঁধিতেছে, হায়! দলে মিশি তার ইন্দ্রিয় আমার বিরোধী হয়েছে মোর, যুবতী আমার--বলিছে আমারে রূপের অধীন ঘোর!