আমরা দুজন একটি গাঁয়ে থাকি সেই আমাদের একটিমাত্র সুখ, তাদের গাছে গায় যে দোয়েল পাখি তাহার গানে আমার নাচে বুক। তাহার দুটি পালন-করা ভেড়া চরে বেড়ায় মোদের বটমূলে, যদি ভাঙে আমার খেতের বেড়া কোলের 'পরে নিই তাহারে তুলে। আমাদের এই গ্রামের নামটি খঞ্জনা, আমাদের এই নদীর নাম অঞ্জনা, আমার নাম তো জানে গাঁয়ের পাঁচ জনে-- আমাদের সেই তাহার নামটি রঞ্জনা। দুইটি পাড়ায় বড়োই কাছাকাছি, মাঝে শুধু একটি মাঠের ফাঁক-- তাদের বনের অনেক মধুমাছি মোদের বনে বাঁধে মধুর চাক। তাদের ঘাটে পূজার জবামালা ভেসে আসে মোদের বাঁধা ঘাটে, তাদের পাড়ার কুসুম-ফুলের ডালা বেচতে আসে মোদের পাড়ার হাটে। আমাদের এই গ্রামের নামটি খঞ্জনা, আমাদের এই নদীর নাম অঞ্জনা, আমার নাম তো জানে গাঁয়ের পাঁচ জনে-- আমাদের সেই তাহার নামটি রঞ্জনা। আমাদের এই গ্রামের গলি-'পরে আমের বোলে ভরে আমের বন, তাদের খেতে যখন তিসি ধরে মোদের খেতে তখন ফোটে শণ। তাদের ছাদে যখন ওঠে তারা আমার ছাদে দখিন হাওয়া ছোটে। তাদের বনে ঝরে শ্রাবণধারা, আমার বনে কদম ফুটে ওঠে। আমাদের এই গ্রামের নামটি খঞ্জনা, আমাদের এই নদীর নামটি অঞ্জনা, আমার নাম তো জানে গাঁয়ের পাঁচ জনে-- আমাদের সেই তাহার নামটি রঞ্জনা।
বিচার করিয়ো না। যেখানে তুমি রয়েছ, সে তো জগতে এক কোণা। যেটুকু তব দৃষ্টি যায় সেটুকু কতখানি, যেটুকু শোন তাহার সাথে মিশাও নিজবাণী। মন্দ-ভালো সাদা ও কালো রাখিছ ভাগে ভাগে। সীমানা মিছে আঁকিয়া তোল আপন-রচা দাগে। সুরের বাঁশি যদি তোমার মনের মাঝে থাকে, চলিতে পথে আপন-মনে জাগায়ে দাও তাকে। গানের মাঝে তর্ক নাই, কাজের নাই তাড়া। যাহার খুশি চলিয়া যাবে, যে খুশি দিবে সাড়া। হ'ক-না তারা কেহ-বা ভালো কেহ-বা ভালো নয়, এক পথেরি পথিক তারা লহো এ পরিচয়। বিচার করিয়ো না। হায় রে হায়, সময় যায়, বৃথা এ আলোচনা। ফুলের বনে বেড়ার কোণে হেরো অপরাজিতা আকাশ হতে এনেছে বাণী, মাটির সে যে মিতা। ওই তো ঘাসে আষাঢ়মাসে সবুজে লাগে বান, -- সকল ধরা ভরিয়া দিল সহজ তার দান। আপনা ভুলি সহজ সুখে ভরুক তব হিয়া, পথিক, তব পথের ধন পথেরে যাও দিয়া।