জীবনের সিংহদ্বারে পশিনু যে ক্ষণে এ আশ্চর্য সংসারের মহানিকেতনে, সে ক্ষণ অজ্ঞাত মোর। কোন্ শক্তি মোরে ফুটাইল এ বিপুল রহস্যের ক্রোড়ে অর্ধরাত্রে মহারণ্যে মুকুলের মতো? তবু তো প্রভাতে শির করিয়া উন্নত যখনি নয়ন মেলি নিরখিনু ধরা কনককিরণ-গাঁথা নীলাম্বর-পরা। নিরখিনু সুখে-দুঃখে-খচিত সংসার, তখনি অজ্ঞাত এই রহস্য অপার নিমেষেই মনে হল মাতৃবক্ষসম নিতান্তই পরিচিত, একান্তই মম। রূপহীন জ্ঞানাতীত ভীষণ শকতি ধরেছে আমার কাছে জননী-মুরতি।
তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি বিচিত্র ছলনাজালে, হে ছলনাময়ী। মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছ নিপুণ হাতে সরল জীবনে। এই প্রবঞ্চনা দিয়ে মহত্ত্বেরে করেছ চিহ্নিত; তার তরে রাখ নি গোপন রাত্রি। তোমার জ্যোতিষ্ক তা'রে যে-পথ দেখায় সে যে তার অন্তরের পথ, সে যে চিরস্বচ্ছ, সহজ বিশ্বাসে সে যে করে তা'রে চিরসমুজ্জল। বাহিরে কুটিল হোক অন্তরে সে ঋজু, এই নিয়ে তাহার গৌরব। লোকে তা'রে বলে বিড়ম্বিত। সত্যেরে সে পায় আপন আলোকে ধৌত অন্তরে অন্তরে। কিছুতে পারে না তা'রে প্রবঞ্চিতে, শেষ পুরস্কার নিয়ে যায় সে যে আপন ভান্ডারে। অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে সে পায় তোমার হাতে শান্তির অক্ষয় অধিকার।