একলা আমি বাহির হলেম তোমার অভিসারে, সাথে সাথে কে চলে মোর নীরব অন্ধকারে। ছাড়াতে চাই অনেক করে ঘুরে চলি, যাই যে সরে, মনে করি আপদ গেছে, আবার দেখি তারে। ধরণী সে কাঁপিয়ে চলে-- বিষম চঞ্চলতা। সকল কথার মধ্যে সে চায় কইতে আপন কথা। সে যে আমার আমি, প্রভু, লজ্জা তাহার নাই যে কভু, তারে নিয়ে কোন্ লাজে বা যাব তোমার দ্বারে।
মা গো, আমায় ছুটি দিতে বল্, সকাল থেকে পড়েছি যে মেলা। এখন আমি তোমার ঘরে ব'সে করব শুধু পড়া-পড়া খেলা। তুমি বলছ দুপুর এখন সবে, নাহয় যেন সত্যি হল তাই, একদিনও কি দুপুরবেলা হলে বিকেল হল মনে করতে নাই? আমি তো বেশ ভাবতে পারি মনে সুয্যি ডুবে গেছে মাঠের শেষে, বাগ্দি-বুড়ি চুবড়ি ভরে নিয়ে শাক তুলেছে পুকুর-ধারে এসে। আঁধার হল মাদার-গাছের তলা, কালি হয়ে এল দিঘির জল, হাটের থেকে সবাই এল ফিরে, মাঠের থেকে এল চাষির দল। মনে কর্-না উঠল সাঁঝের তারা, মনে কর্-না সন্ধে হল যেন। রাতের বেলা দুপুর যদি হয় দুপুর বেলা রাত হবে না কেন।