তব দক্ষিণ হাতের পরশ কর নি সমর্পণ। লেখে আর মোছে তব আলো ছায়া ভাবনার প্রাঙ্গণে খনে খনে আলিপন। বৈশাখে কৃশ নদী পূর্ণ স্রোতের প্রসাদ না দিল যদি শুধু কুণ্ঠিত বিশীর্ণ ধারা তীরের প্রান্তে জাগালো পিয়াসি মন। যতটুকু পাই ভীরু বাসনার অঞ্জলিতে নাই বা উচ্ছলিল, সারা দিবসের দৈন্যের শেষে সঞ্চয় সে যে সারা জীবনের স্বপ্নের আয়োজন।
ফুলের মতন আপনি ফুটাও গান, হে আমার নাথ, এই তো তোমার দান। ওগো সে ফুল দেখিয়া আনন্দে আমি ভাসি, আমার বলিয়া উপহার দিতে আসি, তুমি নিজ হাতে তারে তুলে লও স্নেহে হাসি, দয়া করে প্রভু রাখো মোর অভিমান। তার পরে যদি পূজার বেলার শেষে এ গান ঝরিয়া ধরার ধুলায় মেশে, তবে ক্ষতি কিছু নাই-- তব করতলপুটে অজস্র ধন কত লুটে কত টুটে, তারা আমার জীবনে ক্ষণকালতরে ফুটে, চিরকালতরে সার্থক করে প্রাণ।