সন্ধেবেলায় বন্ধুঘরে জুটল চুপিচুপি গোপেন্দ্র মুস্তুফি। রাত্রে যখন ফিরল ঘরে সবাই দেখে তারিফ করে-- পাগড়িতে তার জুতোজোড়া, পায়ে রঙিন টুপি। এই উপদেশ দিতে এল-- সব করা চাই এলোমেলো, 'মাথায় পায়ে রাখব না ভেদ' চেঁচিয়ে বলে গুপি।
না বুঝেও আমি বুঝেছি তোমারে কেমনে কিছু না জানি। অর্থের শেষ পাই না, তবুও বুঝেছি তোমার বাণী। নিশ্বাসে মোর নিমেষের পাতে চেতনা বেদনা ভাবনাআঘাতে কে দেয় সর্বশরীরে ও মনে তব সংবাদ আনি। না বুঝেও আমি বুঝেছি তোমারে কেমনে কিছু না জানি। তব রাজত্ব লোক হতে লোকে সে বারতা আমি পেয়েছি পলকে, হৃদি-মাঝে যবে হেরেছি তোমার বিশ্বের রাজধানী। না বুঝেও আমি বুঝেছি তোমারে কেমনে কিছু না জানি। আপনার চিতে নিবিড় নিভৃতে যেথায় তোমারে পেয়েছি জানিতে সেথায় সকলি স্থির নির্বাক্ ভাষা পরাস্ত মানি। না বুঝেও আমি বুঝেছি তোমারে কেমনে কিছু না জানি।
নন্দগোপাল বুক ফুলিয়ে এসে বললে আমায় হেসে, "আমার সঙ্গে লড়াই ক'রে কখ্খনো কি পার, বারে বারেই হার।' আমি বললেম, "তাই বৈকি! মিথ্যে তোমার বড়াই, হোক দেখি তো লড়াই।' "আচ্ছা তবে দেখাই তোমায়' এই ব'লে সে যেমনি টানলে হাত দাদামশাই তখ্খনি চিৎপাত। সবাইকে সে আনলে ডেকে, চেঁচিয়ে নন্দ করলে বাড়ি মাত। বারে বারে শুধায় আমায়, "বলো তোমার হার হয়েছে না কি।' আমি কইলেম, "বলতে হবে তা কি।' ধুলোর যখন নিলেম শরণ প্রমাণ তখন রইল কি আর বাকি। এই কথা কি জান -- আমার কাছে নন্দগোপাল যখন হার মান আমারি সেই হার, লজ্জা সে আমার। ধুলোয় যেদিন পড়ব যেন এই জানি নিশ্চিত, তোমারি শেষ জিত।'