ফসল কাটা হলে সারা মাঠ হয়ে যায় ফাঁক; অনাদরের শস্য গজায়, তুচ্ছ দামের শাক। আঁচল ভরে তুলতে আসে গরিব-ঘরের মেয়ে, খুশি হয়ে বাড়িতে যায়, যা জোটে তাই পেয়ে। আজকে আমার চাষ চলে না, নাই লাঙলের বালাই; পোড়ো মাঠের কুঁড়েমিতে মন্থর দিন চালাই। জমিতে রস কিছু আছে, শক্ত যায় নি আঁটি; ফলায় না সে ফল তবুও সবুজ রাখে মাটি। শ্রাবণ আমার গেছে চলে, নাই বাদলের ধারা; অঘ্রান সে সোনার ধানের দিন করেছে সারা। চৈত্র আমার রোদে পোড়া, শুকনো যখন নদী, বুনো ফলের ঝোপের তলায় ছায়া বিছায় যদি, জানব আমার শেষের মাসে ভাগ্য দেয় নি ফাঁকি, শ্যামল ধরার সঙ্গে আমার বাঁধন রইল বাকি।
মনে হয় কী একটি শেষ কথা আছে, সে কথা হইলে বলা সব বলা হয়। কল্পনা কাঁদিয়া ফিরে তারি পাছে পাছে, তারি তরে চেয়ে আছে সমস্ত হৃদয়। শত গান উঠিতেছে তারি অন্বেষণে, পাখির মতন ধায় চরাচরময়। শত গান ম'রে গিয়ে, নূতন জীবনে একটি কথায় চাহে হইতে বিলয়। সে কথা হইলে বলা নীরব বাঁশরি, আর বাজাব না বীণা চিরদিন-তরে। সে কথা শুনিতে সবে আছে আশা করি, মানব এখনো তাই ফিরিছে না ঘরে। সে কথায় আপনারে পাইব জানিতে, আপনি কৃতার্থ হব আপন বাণীতে।
একলা আমি বাহির হলেম তোমার অভিসারে, সাথে সাথে কে চলে মোর নীরব অন্ধকারে। ছাড়াতে চাই অনেক করে ঘুরে চলি, যাই যে সরে, মনে করি আপদ গেছে, আবার দেখি তারে। ধরণী সে কাঁপিয়ে চলে-- বিষম চঞ্চলতা। সকল কথার মধ্যে সে চায় কইতে আপন কথা। সে যে আমার আমি, প্রভু, লজ্জা তাহার নাই যে কভু, তারে নিয়ে কোন্ লাজে বা যাব তোমার দ্বারে।