কালের প্রবল আবর্তে প্রতিহত ফেনপুঞ্জের মতো, আলোকে আঁধারে রঞ্জিত এই মায়া, অদেহ ধরিল কায়া। সত্তা আমার,জানি না, সে কোথা হতে হল উত্থিত নিত্যধাবিত স্রোতে। সহসা অভাবনীয় অদৃশ্য এক আরম্ভ-মাঝে কেন্দ্র রচিল স্বীয়। বিশ্বসত্তা মাঝখানে দিল উঁকি, এ কৌতুকের পশ্চাতে আছে জানি না কে কৌতুকী। ক্ষণিকারে নিয়ে অসীমের এই খেলা, নববিকাশের সাথে গেঁথে দেয় শেষ-বিনাশের হেলা, আলোকে কালের মৃদঙ্গ উঠে বেজে, গোপনে ক্ষণিকা দেখা দিতে আসে মুখ-ঢাকা বধূ সেজে, গলায় পরিয়া হার বুদ্বুদ্ মণিকার। সৃষ্টির মাঝে আসন করে সে লাভ, অনন্ত তারে অন্তসীমায় জানায় অবির্ভাব।
কোথা হতে আসিয়াছি নাহি পড়ে মনে অগণ্য যাত্রীর সাথে তীর্থদরশনে এই বসুন্ধরাতলে; লাগিয়াছে তরী নীলাকাশ সমুদ্রের ঘাটের উপরি। শুনা যায় চারি দিকে দিবসরজনী বাজিতেছে বিরাট সংসার-শঙ্খধ্বনি লক্ষ লক্ষ জীবন-ফুৎকারে। এত বেলা যাত্রী নরনারী-সাথে করিয়াছি মেলা পুরীপ্রান্তে পান্থশালা-'পরে। স্নানে পানে অপরাহ্ন হয়ে এল গল্পে হাসিগানে-- এখন মন্দিরে তব এসেছি, হে নাথ, নির্জনে চরণতলে করি প্রণিপাত এ জন্মের পূজা সমাপিব। তার পর নবতীর্থে যেতে হবে হে বসুধেশ্বর।