স্বপ্নে দেখি নৌকো আমার নদীর ঘাটে বাঁধা; নদী কিম্বা আকাশ সেটা লাগল মনে ধাঁধাঁ। এমন সময় হঠাৎ দেখি, দিক্সীমানায় গেছে ঠেকি একটুখানি ভেসে-ওঠা ত্রয়োদশীর চাঁদা। 'নৌকোতে তোর পার করে দে' এই ব'লে তার কাঁদা। আমি বলি, 'ভাবনা কী তায়, আকাশপারে নেব মিতায়-- কিন্তু আমি ঘুমিয়ে আছি এই যে বিষম বাধা, দেখছ আমার চতুর্দিকটা স্বপ্নজালে ফাঁদা।'
ওরে পাখি, থেকে থেকে ভুলিস কেন সুর, যাস নে কেন ডাকি-- বণীহারা প্রভাত হয় যে বৃথা জানিস নে তুই কি তা। অরুণ-আলোর প্রথম পরশ গাছে গাছে লাগে, কাঁপনে তার তোরই যে সুর পাতায় পাতায় জাগে-- তুই যে ভোরের আলোর মিতা জানিস নে তুই কি তা। জাগরণের লক্ষ্মী যে ওই আমার শিয়রেতে আছে আঁচল পেতে, জানিস নে তুই কি তা। গানের দানে উহারে তুই করিস নে বঞ্চিতা। দুঃখরাতরে স্বপনতলে প্রভাতী তোর কী যে বলে নবীন প্রাণের গীতা, জানিস নে তুই কি তা।