হে বন্ধু, প্রসন্ন হও, দূর করো ক্রোধ। তোমাদের সাথে মোর বৃথা এ বিরোধ। আমি চলিবারে চাই যেই পথ বাহি সেথা কারো তরে কিছু স্থানাভাব নাহি। সপ্তলোক সেই পথে চলে পাশে পাশে তবু তার অন্ত নাই মহান আকাশে। তোমার ঐশ্বর্যরাশি গৃহভিত্তিমাঝে ব্রহ্মান্ডেরে তুচ্ছ করি দীপ্তগর্বে সাজে। তারে সেই বিশ্বপথে করিলে বাহির মুহূর্তে সে হবে ক্ষুদ্র ম্লান নতশির-- সেথা তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ নব তৃণদল বরষার বৃষ্টিধারে সরস শ্যামল। সেথা তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, ওগো অভিমান, এ আমার আজিকার অতি ক্ষুদ্র গান।
ফুরিয়ে গেল পৌষের দিন; কৌতূহলী ভোরের আলো কুয়াশার আবরণ দিলে সরিয়ে। হঠাৎ দেখি শিশিরে-ভেজা বাতাবি গাছে ধরেছে কচি পাতা; সে যেন আপনি বিস্মিত। একদিন তমসার কূলে বাল্মীকি আপনার প্রথম নিশ্বসিত ছন্দে চকিত হয়েছিলেন নিজে,-- তেমনি দেখলেম ওকে। অনেকদিনকার নিঃশব্দ অবহেলা থেকে অরুণ-আলোতে অকুণ্ঠিত বাণী এনেছে এই কয়টি কিশলয়; সে যেন সেই একটুখানি কথা তুমিই বলতে পারতে, কিন্তু না ব'লে গিয়েছ চলে। সেদিন বসন্ত ছিল অনতিদূরে; তোমার আমার মাঝখানে ছিল আধ-চেনার যবনিকা কেঁপে উঠল সেটা মাঝে মাঝে; মাঝে মাঝে তার একটা কোণ গেল উড়ে; দুরন্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ বাতাস, তবু সরাতে পারেনি অন্তরাল। উচ্ছৃঙ্খল অবকাশ ঘটল না; ঘণ্টা গেল বেজে, সায়াহ্নে তুমি চলে গেলে অব্যক্তের অনালোকে।