আমার খোকার কত যে দোষ সে-সব আমি জানি, লোকের কাছে মানি বা নাই মানি। দুষ্টামি তার পারি কিম্বা নারি থামাতে, ভালোমন্দ বোঝাপড়া তাতে আমাতে। বাহির হতে তুমি তারে যেমনি কর দুষী যত তোমার খুশি, সে বিচারে আমার কী বা হয়। খোকা ব'লেই ভালোবাসি, ভালো ব'লেই নয়। খোকা আমার কতখানি সে কি তোমরা বোঝ। তোমরা শুধু দোষ গুণ তার খোঁজ। আমি তারে শাসন করি বুকেতে বেঁধে, আমি তারে কাঁদাই যে গো আপনি কেঁদে। বিচার করি, শাসন করি, করি তারে দুষী আমার যাহা খুশি। তোমার শাসন আমরা মানি নে গো। শাসন করা তারেই সাজে সোহাগ করে যে গো।
দিবস যদি সাঙ্গ হল, না যদি গাহে পাখি, ক্লান্ত বায়ু না যদি আর চলে-- এবার তবে গভীর করে ফেলো গো মোরে ঢাকি অতি নিবিড় ঘন তিমিরতলে স্বপন দিয়ে গোপনে ধীরে ধীরে যেমন করে ঢেকেছ ধরণীরে, যেমন করে ঢেকেছ তুমি মুদিয়া-পড়া আঁখি, ঢেকেছ তুমি রাতের শতদলে। পাথেয় যার ফুরায়ে আসে পথের মাঝখানে, ক্ষতির রেখা উঠেছে যার ফুটে, বসনভূষা মলিন হল ধুলায় অপমানে শকতি যার পড়িতে চায় টুটে-- ঢাকিয়া দিক তাহার ক্ষতব্যথা করুণাঘন গভীর গোপনতা, ঘুচায়ে লাজ ফুটাও তারে নবীন উষাপানে জুড়ায়ে তারে আঁধার সুধাজলে।
তুমি এ পার-ও পার কর কে গো, ওগো খেয়ার নেয়ে! আমি ঘরের দ্বারে বসে বসে দেখি যে তাই চেয়ে, ওগো খেয়ার নেয়ে! ভাঙিলে হাট দলে দলে সবাই যবে ঘাটে চলে আমি তখন মনে করি আমিও যাই ধেয়ে, ওগো খেয়ার নেয়ে! তুমি সন্ধ্যাবেলা ও পার-পানে তরণী যাও বেয়ে, দেখে মন আমার কেমন সুরে ওঠে যে গান গেয়ে, ওগো খেয়ার নেয়ে! কালো জলের কলোকলে আঁখি আমার ছলোছলে, ও পার হতে সোনার আভা পরান ফেলে ছেয়ে, ওগো খেয়ার নেয়ে! দেখি তোমার মুখে কথাটি নেই, ওগো খেয়ার নেয়ে! কী যে তোমার চোখে লেখা আছে দেখি যে তাই চেয়ে, ওগো খেয়ার নেয়ে! আমার মুখে ক্ষণতরে যদি তোমার আঁখি পড়ে আমি তখন মনে করি আমিও যাই ধেয়ে, ওগো খেয়ার নেয়ে!