আমার এ মানসের কানন কাঙাল শীর্ণ শুষ্ক বাহু মেলি বহু দীর্ঘকাল আছে ক্রুদ্ধ ঊর্ধ্ব-পানে চাহি। ওহে নাথ, এ রুদ্র মধ্যাহ্ন-মাঝে কবে অকস্মাৎ পথিক পবন কোন্ দূর হতে এসে ব্যগ্র শাখাপ্রশাখায় চক্ষের নিমেষে কানে কানে রটাইবে আনন্দমর্মর, প্রতীক্ষায় পুলকিয়া বনবনান্তর। গম্ভীর মাভৈঃমন্দ্র কোথা হতে ব'হে তোমার প্রসাদপুঞ্জ ঘনসমারোহে ফেলিবে আচ্ছন্ন করি নিবিড়ছায়ায়। তার পরে বিপুল বর্ষণ। তার পরে পরদিন প্রভাতের সৌম্যরবিকরে রিক্ত মালঞ্চের মাঝে পূজাপুষ্পরাশি নাহি জানি কোথা হতে উঠিবে বিকাশি।
তুমি আমার আঙিনাতে ফুটিয়ে রাখ ফুল। আমার আনাগোনার পথখানি হয় সৌরভে আকুল। ওগো ওই তোমারি ফুল। ওরা আমার হৃদয়পানে মুখ তুলে যে থাকে। ওরা তোমার মুখের ডাক নিয়ে যে আমারি নাম ডাকে। ওগো ওই তোমারি ফুল। তোমার কাছে কী যে আমি সেই কথাটি হেসে ওরা আকাশেতে ফুটিয়ে তোলে, ছড়ায় দেশে দেশে। ওগো ওই তোমারি ফুল। দিন কেটে যায় অন্যমনে,ওদের মুখে তবু প্রভু, তোমার মুখের সোহাগবাণী ক্লান্ত না হয় কভু। ওগো ওই তোমারি ফুল। প্রাতের পরে প্রাতে ওরা, রাতের পরে রাতে তোমার অন্তবিহীন যতনখানি বহন করে মাথে। ওগো ওই তোমারি ফুল। হাসিমুখে আমার যতন নীরব হয়ে যাচে। তোমার অনেক যুগের পথ-চাওয়াটি ওদের মুখে আছে। ওগো ওই তোমারি ফুল।