হে অন্তরের ধন, তুমি যে বিরহী, তোমার শূন্য এ ভবন। আমার ঘরে তোমায় আমি একা রেখে দিলাম স্বামী, কোথায় যে বাহিরে আমি ঘুরি সকল ক্ষণ। হে অন্তরের ধন, এই বিরহে কাঁদে আমার নিখিল ভুবন। তোমার বাঁশি নানা সুরে আমায় খুঁজে বেড়ায় দূরে, পাগল হল বসন্তের এই দখিন সমীরণ।
কোলে ছিল সুরে-বাঁধা বীণা মনে ছিল বিচিত্র রাগিণী, মাঝখানে ছিঁড়ে যাবে তার সে কথা ভাবি নি। ওগো আজি প্রদীপ নিবাও, বন্ধ করো দ্বার-- সভা ভেঙে ফিরে চলে যাও হৃদয় আমার। তোমরা যা আশা করেছিলে নারিনু পুরাতে-- কে জানিত ছিঁড়ে যাবে তার গীত না ফুরাতে। ভেবেছিনু ঢেলে দিব মন, প্লাবন করিব দশদিশি-- পুষ্পগন্ধে আনন্দে মিশিয়া পূর্ণ হবে পূর্ণিমার নিশি। ভেবেছিনু ঘিরিয়া বসিবে তোমরা সকলে, গীতশেষে হেসে ভালোবেসে মালা দিবে গলে, শেষ করে যাব সব কথা সকল কাহিনী-- মাঝখানে ছিঁড়ে যাবে তার সে কথা ভাবি নি। আজি হতে সবে দয়া করে ভুলে যাও, ঘরে যাও চলে-- করিয়ো না মোরে অপরাধী মাঝখানে থামিলাম ব'লে। আমি চাহি আজি রজনীতে নীরব নির্জন ভূমিতলে ঘুমায়ে পড়িতে স্তব্ধ অচেতন-- খ্যাতিহীন শান্তি চাহি আমি স্নিগ্ধ অন্ধকার। সাঙ্গ না হইতে সব গান ছিন্ন হল তার।
তোমার কাছে আমিই দুষ্টু ভালো যে আর সবাই। মিত্তিরদের কালু নিলু ভারি ঠাণ্ডা ক-ভাই! যতীশ ভালো, সতীশ ভালো, ন্যাড়া নবীন ভালো, তুমি বল ওরাই কেমন ঘর করে রয় আলো। মাখন বাবুর দুটি ছেলে দুষ্টু তো নয় কেউ-- গেটে তাদের কুকুর বাঁধা কর্তেছে ঘেউ ঘেউ। পাঁচকড়ি ঘোষ লক্ষ্মী ছেলে, দত্তপাড়ার গবাই, তোমার কাছে আমিই দুষ্টু ভালো যে আর সবাই। তোমার কথা আমি যেন শুনি নে কক্খনোই, জামাকাপড় যেন আমার সাফ থাকে না কোনোই! খেলা করতে বেলা করি, বৃষ্টিতে যাই ভিজে, দুষ্টুপনা আরো আছে অমনি কত কী যে! বাবা আমার চেয়ে ভালো? সত্যি বলো তুমি, তোমার কাছে করেন নি কি একটুও দুষ্টুমি? যা বল সব শোনেন তিনি, কিচ্ছু ভোলেন নাকো? খেলা ছেড়ে আসেন চলে যেমনি তুমি ডাক?