তব পূজা না আনিলে দণ্ড দিবে তারে, যমদূত লয়ে যাবে নরকের দ্বারে-- ভক্তিহীনে এই বলি যে দেখায় ভয় তোমার নিন্দুক সে যে, ভক্ত কভু নয়। হে বিশ্বভুবনরাজ, এ বিশ্বভুবনে আপনারে সব চেয়ে রেখেছ গোপনে আপন মহিমা-মাঝে। তোমার সৃষ্টির ক্ষুদ্র বালুকণাটুকু,ক্ষণিক শিশির তারাও তোমার চেয়ে প্রত্যক্ষ আকারে দিকে দিকে ঘোষণা করিছে আপনারে। যা-কিছু তোমারি তাই আপনার বলি চিরদিন এ সংসার চলিয়াছে ছলি-- তবু সে চোরের চৌর্য পড়ে না তো ধরা। আপনারে জানাইতে নাই তব ত্বরা।
আমি হব না তাপস, হব না, হব না, যেমনি বলুন যিনি। আমি হব না তাপস নিশ্চয় যদি না মেলে তপস্বিনী। আমি করেছি কঠিন পণ যদি না মিলে বকুলবন, যদি মনের মতন মন না পাই জিনি, তবে হব না তাপস, হব না, যদি না পাই সে তপস্বিনী। আমি ত্যজিব না ঘর, হব না বাহির উদাসীন সন্ন্যাসী, যদি ঘরের বাহিরে না হাসে কেহই ভুবন-ভুলানো হাসি। যদি না উড়ে নীলাঞ্চল মধুর বাতাসে বিচঞ্চল, যদি না বাজে কাঁকন মল রিনিক-ঝিনি-- আমি হব না তাপস, হব না, যদি না পাই গো তপস্বিনী। আমি হব না তাপস, তোমার শপথ, যদি সে তপের বলে কোনো নূতন ভুবন না পারি গড়িতে নূতন হৃদয়-তলে। যদি জাগায়ে বীণার তার কারো টুটিয়া মরম-দ্বার, কোনো নূতন আঁখির ঠার না লই চিনি আমি হব না তাপস, হব না, হব না, না পেলে তপস্বিনী।