নারীর ললিত লোভন লীলায় এখনি কেন এ ক্লান্তি। এখনি কি সখা, খেলা হল অবসান॥ যে মধুর রসে ছিলে বিহ্বল সে কি মধুমাখা ভ্রান্তি-- সে কি স্বপ্নের দান। সে কি সত্যের অপমান। দূর দুরাশায় হৃদয় ভরিছ, কঠিন প্রেমের প্রতিমা গড়িছ-- কী মনে ভাবিয়া নারীতে করিছ পৌরুষসন্ধান। এও কি মায়ার দান॥ সহসা মন্ত্রবলে নমনীয় এই কমনীয়তারে যদি আমাদের সখী একেবারে পরের বসন-সমান ছিন্ন করি ফেলে ধূলিতলে সবে না সবে না সে নৈরাশ্য-- ভাগ্যের সেই অট্টহাস্য জানি জানি সখা, ক্ষুব্ধ করিবে লুব্ধ পুরুষপ্রাণ-- হানিবে নিঠুর বাণ॥
হিয়া কাঁপিছে সুখে কি দুখে সখী, কেন নয়নে আসে বারি। আজি প্রিয়তম আসিবে মোর ঘরে-- বলো কী করিব আমি সখী। দেখা হলে, সখী, সেই প্রাণবঁধুরে কী বলিব নাহি জানি। সে কি না জানিবে, সখী, রয়েছে যা হৃদয়ে-- না বুঝে কি ফিরে যাবে সখী॥
আজ তোমারে দেখতে এলেম অনেক দিনের পরে। ভয় কোরো না, সুখে থাকো, বেশিক্ষণ থাকব নাকো-- এসেছি দণ্ড-দুয়ের তরে॥ দেখব শুধু মুখখানি, শুনাও যদি শুনব বাণী, নাহয় যাব আড়াল থেকে হাসি দেখে দেশান্তরে॥