এ ভালোবাসার যদি দিতে প্রতিদান-- একবার মুখ তুলে চাহিয়া দেখিতে যদি যখন দুখের জল বর্ষিত নয়ান-- শ্রান্ত ক্লান্ত হয়ে যবে ছুটে আসিতাম, সখী, ওই মধুময় কোলে দিতে যদি স্থান-- তা হলে, তা হলে, সখী, চিরজীবনের তরে দারুণযাতনাময় হ'ত না পরান। একটি কথায় তব একটু স্নেহের স্বরে যদি যায় জুড়াইয়া হৃদয়ের জ্বালা, তবে সেইটুকু, সখী, কোরো অভাগার তরে-- নহিলে হৃদয় যাবে ভেঙেচুরে বালা! একবার মুখ তুলে চেয়ো এ মুখের পানে-- মুছায়ে দিয়ো গো, সখী, নয়নের জল-- তোমার স্নেহের ছায়ে আশ্রয় দিয়ো গো মোরে, আমার হৃদয় মন বড়োই দুর্বল। সংসারের স্রোতে ভেসে কত দূর যাব চলে-- আমি কোথা রব আর তুমি কোথা রবে। কত বর্ষ হবে গত, কত সূর্য হবে অস্ত, আছিল নূতন যাহা পুরাতন হবে। তখন সহসা যদি দেখা হয় দুইজনে-- আসি যদি কহিবারে মরমের ব্যথা-- তখন সঙ্কোচভরে দূরে কি যাইবে সরে। তখন কি ভালো করে কবে নাকো কথা।
হেথা যে গান গাইতে আসা আমার হয় নি সে গান গাওয়া-- আজো কেবলি সুর সাধা, আমার কেবল গাইতে চাওয়া। আমার লাগে নাই সে সুর, আমার বাঁধে নাই সে কথা, শুধু প্রাণেরই মাঝখানে আছে গানের ব্যাকুলতা। আজো ফোটে নাই সে ফুল, শুধু বহেছে এক হাওয়া। আমি দেখি নাই তার মুখ, আমি শুনি নাই তার বাণী, কেবল শুনি ক্ষণে ক্ষণে তাহার পায়ের ধ্বনিখানি। আমার দ্বারের সমুখ দিয়ে সে জন করে আসা-যাওয়া। শুধু আসন পাতা হল আমার সারাটি দিন ধ'র-- ঘরে হয় নি প্রদীপ জ্বালা, তারে ডাকব কেমন ক'রে। আছি পাবার আশা নিয়ে, তারে হয় নি আমারা পাওয়া।