আমার দিন ফুরালো ব্যাকুল বাদলসাঁঝে গহন মেঘের নিবিড় ধারার মাঝে॥ বনের ছায়ায় জলছলছল সুরে হৃদয় আমার কানায় কানায় পূরে। খনে খনে ওই গুরুগুরু তালে তালে গগনে গগনে গভীর মৃদঙ বাজে॥ কোন্ দূরের মানুষ যেন এল আজ কাছে, তিমির-আড়ালে নীরবে দাঁড়ায়ে আছে। বুকে দোলে তার বিরহব্যথার মালা গোপন-মিলন-অমৃতগন্ধ-ঢালা। মনে হয় তার চরণের ধ্বনি জানি-- হার মানি তার অজানা জনের সাজে॥
আমি এলেম তারি দ্বারে, ডাক দিলেম অন্ধকারে হা রে॥ আগল ধরে দিলেম নাড়া-- প্রহরে গেল, পাই নি সাড়া, দেখতে পেলেম না যে তা রে হা রে॥ তবে যাবার আগে এখান থেকে এই লিখনখানি যাব রেখে-- দেখা তোমার পাই বা না পাই দেখতে এলেম জেনো গো তাই, ফিরে যাই সুদূরের পারে হা রে॥
যখন তোমায় আঘাত করি তখন চিনি। শত্রু হয়ে দাঁড়াই যখন লও যে জিনি॥ এ প্রাণ যত নিজের তরে তোমারি ধন হরণ করে ততই শুধু তোমার কাছে হয় সে ঋণী॥ উজিয়ে যেতে চাই যতবার গর্বসুখে, তোমার স্রোতের প্রবল পরশ পাই যে বুকে। আলো যখন আলসভরে নিবিয়ে ফেলি আপন ঘরে লক্ষ তারা জ্বালায় তোমার নিশীথিনী॥