না গো, এই যে ধুলা আমার না এ। তোমার ধুলার ধরার 'পরে উড়িয়ে যাব সন্ধ্যাবায়ে॥ দিয়ে মাটি আগুন জ্বালি রচলে দেহ পূজার থালি-- শেষ আরতি সারা ক'রে ভেঙে যাব তোমার পায়ে॥ ফুল যা ছিল পূজার তরে যেতে পথে ডালি হতে অনেক যে তার গেছে পড়ে। কত প্রদীপ এই থালাতে সাজিয়েছিলে আপন হাতে-- কত যে তার নিবল হাওয়ায়, পৌঁছল না চরণছায়ে॥
তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা, এ সমুদ্রে আর কভু হব নাকো পথহারা। যেথা আমি যাই নাকো তুমি প্রকাশিত থাকো, আকুল নয়নজলে ঢালো গো কিরণধারা ॥ তব মুখ সদা মনে জাগিতেছে সংগোপনে, তিলেক অন্তর হলে না হেরি কূল-কিনারা। কখনো বিপথে যদি ভ্রমিতে চাহে এ হৃদি অমনি ও মুখ হেরি শরমে সে হয় সারা।
আর রেখো না আঁধারে, আমায় দেখতে দাও। তোমার মাঝে আমার আপনারে দেখতে দাও ॥ কাঁদাও যদি কাঁদাও এবার, সুখের গ্লানি সয় না যে আর, নয়ন আমার যাক-না ধুয়ে অশ্রুধারে-- আমায় দেখতে দাও ॥ জানি না তো কোন্ কালো এই ছায়া, আপন ব'লে ভুলায় যখন ঘনায় বিষম মায়া। স্বপ্নভারে জমল বোঝা, চিরজীবন শূন্য খোঁজা-- যে মোর আলো লুকিয়ে আছে রাতের পারে আমায় দেখতে দাও।