তোমারে জানি নে হে, তবু মন তোমাতে ধায়। তোমারে না জেনে বিশ্ব তবু তোমাতে বিরাম পায়।। অসীম সৌন্দর্য তব কে করেছে অনুভব হে, সে মাধুরী চিরনব– আমি না জেনে প্রাণ সঁপেছি তোমায়।। তুমি জ্যোতির জ্যোতি, আমি অন্ধ আঁধারে। তুমি মুক্ত মহীয়ান, আমি মগ্ন পাথারে। তুমি অন্তহীন, আমি ক্ষুদ্র দীন– কী অপূর্ব মিলন তোমায় আমায়।।
তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে টুকরো করে কাছি আমি ডুবতে রাজি আছি আমি ডুবতে রাজি আছি ॥ সকাল আমার গেল মিছে, বিকেল যে যায় তারি পিছে গো-- রেখো না আর, বেঁধো না আর কূলের কাছাকাছি ॥ মাঝির লাগি আছি জাগি সকল রাত্রিবেলা, ঢেউগুলো যে আমায় নিয়ে করে কেবল খেলা। ঝড়কে আমি করব মিতে, ডরব না তার ভ্রূকুটিতে-- দাও ছেড়ে দাও, ওগো, আমি তুফান পেলে বাঁচি ॥
বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারি শুষ্ক হৃদয় লয়ে আছে দাঁড়াইয়ে ঊর্ধ্বমুখে নরনারী ॥ না থাকে অন্ধকার, না থাকে মোহপাপ, না থাকে শোকপরিতাপ। হৃদয় বিমল হোক, প্রাণ সবল হোক, বিঘ্ন দাও অপসারি ॥ কেন এ হিংসাদ্বেষ, কেন এ ছদ্মবেশ, কেন এ মান-অভিমান। বিতর' বিতর' প্রেম পাষাণহৃদয়ে, জয় জয় হোক তোমারি ॥