সুখে আমায় রাখবে কেন, রাখো তোমার কোলে। যাক-না গো সুখ জ্বলে ॥ যাক-না পায়ের তলার মাটি, তুমি তখন ধরবে আঁটি-- তুলে নিয়ে দুলাবে ওই বাহুদোলার দোলে ॥ যেখানে ঘর বাঁধব আমি আসে আসুক বান-- তুমি যদি ভাসাও মোরে চাই নে পরিত্রাণ। হার মেনেছি, মিটেছে ভয়-- তোমার জয় তো আমারি জয় ধরা দেব, তোমায় আমি ধরব যে তাই হলে ॥
এ পথে আমি-যে গেছি বার বার, ভুলি নি তো এক দিনও। আজ কি ঘুচিল চিহ্ন তাহার, উঠিল বনের তৃণ॥ তবু মনে মনে জানি নাই ভয়, অনুকূল বায়ু সহসা যে বয়-- চিনিব তোমায় আসিবে সময়, তুমি যে আমায় চিন॥ একেলা যেতাম যে প্রদীপ হাতে নিবেছে তাহার শিখা। তবু জানি মনে তারার ভাষাতে ঠিকানা রয়েছে লিখা। পথের ধারেতে ফুটিল যে ফুল জানি জানি তারা ভেঙে দেবে ভুল-- গন্ধে তাদের গোপন মৃদুল সঙ্কেত আছে লীন॥
শোনো শোনো আমাদের ব্যথা দেবদেব, প্রভু, দয়াময়— আমাদের ঝরিছে নয়ন, আমাদের ফাটিছে হৃদয় ।। চিরদিন আঁধার না রয়— রবি উঠে, নিশি দূর হয়— এ দেশের মাথার উপরে এ নিশীথ হবে না কি ক্ষয় । চিরদিন ঝরিবে নয়ন ? চিরদিন ফাটিবে হৃদয় ?। মরমে লুকানো কত দুখ, ঢাকিয়া রয়েছি ম্লান মুখ— কাঁদিবার নাই অবসর— কথা নাই, শুধু ফাটে বুক । সঙ্কোচে ম্রিয়মাণ প্রাণ, দশ দিশি বিভীষিকাময়— হেন হীন দীনহীন দেশে বুঝি তব হবে না আলয় । চিরদিন ঝরিবে নয়ন, চিরদিন ফাটিবে হৃদয় ।। কোনো কালে তুলিব কি মাথা । জাগিবে কি অচেতন প্রাণ । ভারতের প্রভাতগগনে উঠিবে কি তব জয়গান । আশ্বাসবচন কোনো ঠাঁই কোনোদিন শুনিতে না পাই— শুনিতে তোমার বাণী তাই মোরা সবে রয়েছি চাহিয়া । বলো, প্রভু, মুছিবে এ আঁখি, চিরদিন ফাটিবে না হিয়া ।।