যে থাকে থাক-না দ্বারে, যে-যাবি যা-না পারে ॥ যদি ওই ভোরের পাখি তোরি নাম যায় রে ডাকি একা তুই চলে যা রে ॥ কুঁড়ি চায় আঁধার রাতে শিশিরের রসে মাতে। ফোটা ফুল চায় না নিশা প্রাণে তার আলোর তৃষা, কাঁদে সে অন্ধকারে ॥
ওরে, নূতন যুগের ভোরে দিস নে সময় কাটিয়ে বৃথা সময় বিচার করে ॥ কী রবে আর কী রবে না, কী হবে আর কী হবে না ওরে হিসাবি, এ সংশয়ের মাঝে কি তোর ভাবনা মিশাবি?। যেমন করে ঝর্না নামে দুর্গম পর্বতে নির্ভাবনায় ঝাঁপ দিয়ে পড় অজাজিতের পথে। জাগবে ততই শক্তি যতই হানবে তোরে মানা, অজানাকে বশ ক'রে তুই করবি আপন জানা। চলায় চলায় বাজবে জয়ের ভেরী-- পায়ের বেগেই পথ কেটে যায়, করিস নে আর দেরি ॥
কঠিন লোহা কঠিন ঘুমে ছিল অচেতন, ও তার ঘুম ভাঙাইনু রে। লক্ষ যুগের অন্ধকারে ছিল সঙ্গোপন, ওগো, তায় জাগাইনু রে॥ পোষ মেনেছে হাতের তলে যা বলাই সে তেমনি বলে-- দীর্ঘ দিনের মৌন তাহার আজ ভাগাইনু রে॥ অচল ছিল, সচল হয়ে ছুটেছে ওই জগৎ-জয়ে-- নির্ভয়ে আজ দুই হাতে তার রাশ বাগাইনু রে॥