আমায় ছ জনায় মিলে পথ দেখায় ব’লে পদে পদে পথ ভুলি হে। নানা কথার ছলে নানান মুনি বলে, সংশয়ে তাই দুলি হে।। তোমার কাছে যাব এই ছিল সাধ, তোমার বাণী শুনে ঘুচাব প্রমাদ, কানের কাছে সবাই করিছে বিবাদ– শত লোকের শত বুলি হে।। কাতর প্রাণে আমি তোমায় যখন যাচি আড়াল ক’রে সবাই দাঁড়ায় কাছাকাছি, ধরণীর ধুলো তাই নিয়ে আছি– পাই নে চরণধূলি হে।। শত ভাগ মোর শত দিকে ধায়, আপনা-আপনি বিবাদ বাধায়– কারে সামালিব, একি হল দায়– একা যে অনেকগুলি হে।। আমায় এক করো তোমার প্রেমে বেঁধে, এক পথ আমায় দেখাও অবিচ্ছেদে– ধাঁদার মাঝে প’ড়ে কত মরি কেঁদে– চরণেতে লহো তুলি হে।।
ওরে বকুল পারুল, ওরে শালপিয়ালের বন, কোন্খানে আজ পাই আমার মনের মতন ঠাঁই। যেথায় আমার ফাগুন ভরে দেব দিয়ে আমার মন, দিয়ে আমার সকল মন॥ সারা গগনতলে তুমুল রঙের কোলাহলে তোদের মাতামাতির নেই যে বিরাম কোথাও অনুক্ষণ, নেই একটি বিরল ক্ষণ যেথায় আমার ফাগুন ভরে দেব দিয়ে আমার মন, দিয়ে আমার সকল মন॥ ওরে বকুল পারুল, ওরে শালপিয়ালের বন, আকাশ নিবিড় করে তোরা দাঁড়াস নে ভিড় করে আমি চাই নে, চাই নে, চাই নে এমন গন্ধ রঙের বিপুল আয়োজন। আমি চাই নে। অকুল অবকাসে যেথায় স্বপ্নকমল ভাসে এমন দে আমারে একটি আমার গগন-জোড়া কোণ, আমার একটি অসীম কোণ যেথায় আমার ফাগুন ভরে দেব দিয়ে আমার মন-- দিয়ে আমার সকল মন॥