দোষী করিব না, করিব না তোমারে আমি নিজেরে নিজে করি ছলনা। মনে মনে ভাবি ভালোবাসো, মনে মনে বুঝি তুমি হাসো, জান এ আমার খেলা-- এ আমার মোহের রচনা ॥ সন্ধ্যামেঘের রাগে অকারণে ছবি জাগে, সেইমতো মায়ার আভাসে মনের আকাশে হাওয়ায় হাওয়ায় ভাসে শূন্যে শূন্যে ছিন্নলিপি মোর বিরহমিলনকল্পনা ॥
আর বছরেই এমনি দিনেই ফাগুন মাসে কী উচ্ছ্বাসে নাচের মাতন লাগল শিরীষ-ডালে স্বর্গপুরের কোন্ নূপুরের তালে। প্রত্যহ সেই চঞ্চল প্রাণ শুধিয়েছিল, 'শুনাও দেখি আসে নি কি-- আসে নি কি।' আবার কখন এমনি দিনেই ফাগুন মাসে কী আশ্বাসে ডালগুলি তার রইবে শ্রবণ পেতে অলখ জনের চরণ-শব্দে মেতে। প্রত্যহ তার মর্মরস্বর বলবে আমায় কী বিশ্বাসে, 'সে কি আসে-- সে কি আসে।'
প্রশ্ন জানাই পুষ্পবিভোর ফাগুন মাসে কী আশ্বাসে, 'হায় গো, আমার ভাগ্য-রাতের তারা, নিমেষ-গণন হয় নি কি মোর সারা।' প্রত্যহ বয় প্রাঙ্গণময় বনের বাতাস এলোমেলো-- 'সে কি এল-- সে কি এল।'
চিঁড়েতন হর্তন ইস্কাবন অতি সনাতন ছন্দে কর্তেছে নর্তন। কেউ বা ওঠে কেউ পড়ে, কেউ বা একটু নাহি নড়ে, কেউ শুয়ে শুয়ে ভুঁয়ে করে কালকর্তন।। নাহি কহে কথা কিছু– একটু না হাসে, সামনে যে আসে চলে তারি পিছু পিছু। বাঁধা তার পুরাতন চালটা, নাই কোনো উল্টা-পাল্টা– নাই পরিবর্তন।।