যদি আমায় তুমি বাঁচাও, তবে তোমার নিখিল ভুবন ধন্য হবে ॥ যদি আমার মনের মলিন কালি ঘুচাও পুণ্যসলিল ঢালি তোমার চন্দ্র সূর্য নূতন আলোয় জাগবে জ্যোতির মহোৎসবে ॥ আজও ফোটে নি মোর শোভার কুঁড়ি, তারি বিষাদ আছে জগৎ জুড়ি। যদি নিশার তিমির গিয়ে টুটে আমার হৃদয় জেগে ওঠে, তবে মুখর হবে সকল আকাশ আনন্দময় গানের রবে।
নারীর ললিত লোভন লীলায় এখনি কেন এ ক্লান্তি। এখনি কি সখা, খেলা হল অবসান॥ যে মধুর রসে ছিলে বিহ্বল সে কি মধুমাখা ভ্রান্তি-- সে কি স্বপ্নের দান। সে কি সত্যের অপমান। দূর দুরাশায় হৃদয় ভরিছ, কঠিন প্রেমের প্রতিমা গড়িছ-- কী মনে ভাবিয়া নারীতে করিছ পৌরুষসন্ধান। এও কি মায়ার দান॥ সহসা মন্ত্রবলে নমনীয় এই কমনীয়তারে যদি আমাদের সখী একেবারে পরের বসন-সমান ছিন্ন করি ফেলে ধূলিতলে সবে না সবে না সে নৈরাশ্য-- ভাগ্যের সেই অট্টহাস্য জানি জানি সখা, ক্ষুব্ধ করিবে লুব্ধ পুরুষপ্রাণ-- হানিবে নিঠুর বাণ॥
সে দিনে আপদ আমার যাবে কেটে পুলকে হৃদয় যেদিন পড়বে ফেটে ॥ তখন তোমার গন্ধ তোমার মধু আপনি বাহির হবে বঁধু হে, তারে আমার ব'লে ছলে বলে কে বলো আর রাখবে এঁটে ॥ আমারে নিখিল ভুবন দেখছে চেয়ে রাত্রিদিবা। আমি কি জানি নে তার অর্থ কিবা! তারা যে জানে আমার চিত্তকোষে অমৃতরূপ আছে বসে গো-- তারেই প্রকাশ করি, আপনি মরি, তবে আমার দুঃখ মেটে ॥