ওগো মৌন, না যদি কও না-ই কহিলে কথা। বক্ষ ভরি বইব আমি তোমার নীরবতা। স্তব্ধ হয়ে রইব পড়ে, রজনী রয় যেমন করে জ্বালিয়ে তারা নিমেষহারা ধৈর্যে অবনতা। হবে হবে প্রভাত হবে আঁধার যাবে কেটে। তোমার বাণী সোনার ধারা পড়বে আকাশ ফেটে। তখন আমার পাখির বাসায় জাগবে কি গান তোমার ভাষায়। তোমার তানে ফোটাবে ফুল আমার বনলতা?
"তোমার বীণায় সব তার বাজে, ওহে বীণকার, তারি মাঝে কেন নীরব কেবল একখানি তার।' ভবনদীতীরে হৃদিমন্দিরে দেবতা বিরাজে, পূজা সমাপিয়া এসেছি ফিরিয়া আপনার কাজে। বিদায়ের ক্ষণে শুধাল পূজারি, "দেবীরে কী দিলে? তব জনমের শ্রেষ্ঠ কী ধন ছিল এ নিখিলে?' কহিলাম আমি, সঁপিয়া এসেছি পূজা-উপহার আমার বীণায় ছিল যে একটি সুবর্ণ-তার, যে তারে আমার হৃদয়বনের যত মধুকর ক্ষণেকে ক্ষণেকে ধ্বনিয়া তুলিত গুঞ্জনস্বর, যে তারে আমার কোকিল গাহিত বসন্তগান সেইখানি আমি দেবতাচরণে করিয়াছি দান। তাই এ বীণায় বাজে না কেবল একখানি তার-- আছে তাহা শুধু মৌন মহৎ পূজা-উপহার।