দিবস যদি সাঙ্গ হল, না যদি গাহে পাখি, ক্লান্ত বায়ু না যদি আর চলে-- এবার তবে গভীর করে ফেলো গো মোরে ঢাকি অতি নিবিড় ঘন তিমিরতলে স্বপন দিয়ে গোপনে ধীরে ধীরে যেমন করে ঢেকেছ ধরণীরে, যেমন করে ঢেকেছ তুমি মুদিয়া-পড়া আঁখি, ঢেকেছ তুমি রাতের শতদলে। পাথেয় যার ফুরায়ে আসে পথের মাঝখানে, ক্ষতির রেখা উঠেছে যার ফুটে, বসনভূষা মলিন হল ধুলায় অপমানে শকতি যার পড়িতে চায় টুটে-- ঢাকিয়া দিক তাহার ক্ষতব্যথা করুণাঘন গভীর গোপনতা, ঘুচায়ে লাজ ফুটাও তারে নবীন উষাপানে জুড়ায়ে তারে আঁধার সুধাজলে।
এ সংসারে একদিন নববধূবেশে তুমি যে আমার পাশে দাঁড়াইলে এসে, রাখিলে আমার হাতে কম্পমান হাত, সে কি অদৃষ্টের খেলা, সে কি অকস্মাৎ? শুধু এক মুহূর্তের এ নহে ঘটনা, অনাদিকালের এ আছিল মন্ত্রণা। দোঁহার মিলনে মোরা পূর্ণ হব দোঁহে, বহু যুগ আসিয়াছি এই আশা বহে। নিয়ে গেছ কতখানি মোর প্রাণ হতে, দিয়ে গেছ কতখানি এ জীবনস্রোতে! কত দিন কত রাত্রে কত লজ্জাভয়ে কত ক্ষতিলাভে কত জয়ে পরাজয়ে রচিতেছিলাম যাহা মোরা শ্রান্তিহারা সাঙ্গ কে করিবে তাহা মোরা দোঁহে ছাড়া?