হে রাজেন্দ্র,তব হাতে কাল অন্তহীন। গণনা কেহ না করে, রাত্রি আর দিন আসে যায়, ফুটে ঝরে যুগযুগন্তরা। বিলম্ব নাহিক তব, নাহি তব ত্বরা-- প্রতীক্ষা করিতে জান। শতবর্ষ ধ'রে একটি পুষ্পের কলি ফুটাবার তরে চলে তব ধীর আয়োজন। কাল নাই আমাদের হাতে; কাড়াকাড়ি করে তাই সবে মিলে; দেরি কারো নাহি সহে কভু। আগে তাই সকলের সব সেবা, প্রভু, শেষ করে দিতে দিতে কেটে যায় কাল-- শূন্য পড়ে থাকে হায় তব পূজা-থাল। অসময়ে ছুটে আসি, মনে বাসি ভয়-- এসে দেখি, যায় নাই তোমার সময়।
এ ধূসর জীবনের গোধূলি, ক্ষীণ তার উদাসীন স্মৃতি, মুছে-আসা সেই ম্লান ছবিতে রঙ দেয় গুঞ্জনগীতি। ফাগুনের চম্পক পরাগে সেই রঙ জাগে, ঘুমভাঙা কোকিলের কূজনে সেই রঙ লাগে, সেই রঙ পিয়ালের ছায়াতে ঢেলে দেয় পূর্ণিমাতিথি। এই ছবি ভৈরবী-আলাপে দোলে মোর কম্পিত বক্ষে, সেই ছবি সেতারের প্রলাপে মরীচিকা এনে দেয় চক্ষে, বুকের লালিম-রঙে রাঙানো সেই ছবি স্বপ্নের অভ্রতথি।