রাজপুরীতে বাজায় বাঁশি বেলাশেষের তান। পথে চলি, শুধায় পথিক, "কি নিলি তোর দান?" দেখাব যে সবার কাছে এমন আমার কী বা আছে? সঙ্গে আমার আছে শুধু এই ক'খানি গান। ঘরে আমার রাখতে যে হয় বহুলোকের মন। অনেক বাঁশি অনেক কাঁসি অনেক আয়োজন। বঁধুর কাছে আসার বেলায় গানটি শুধু নিলেম গলায়, তারি গলার মাল্য ক'রে করব মূল্যবান।
গতি আমার এসে ঠেকে যেথায় শেষে অশেষ সেথা খোলে আপন দ্বার। যেথা আমার গান হয় গো অবসান সেথা গানের নীরব পারাবার। যেথা আমার আঁখি আঁধারে যায় ঢাকি অলখ-লোকের আলোক সেথা জ্বলে। বাইরে কুসুম ফুটে ধুলায় পড়ে টুটে, অন্তরে তো অমৃত-ফল ফলে। কর্ম বৃহৎ হয়ে চলে যখন বয়ে তখন সে পায় বৃহৎ অবকাশ। যখন আমার আমি ফুরায়ে যায় থামি তখন আমার তোমাতে প্রকাশ।
ক্ষুভিত সাগরে নিভৃত তরীর গেহ, রজনী দিবস বহিছে তীরের স্নেহ। দিকে দিকে যেথা বিপুল জলের দোল গোপনে সেথায় এনেছে ধরার কোল। উত্তাল ঢেউ তারা যে দৈত্য-ছেলে পুত্তলী ভেবে লাফ দেয় বাহু মেলে। তার হাত হতে বাঁচায়ে আনিলে তুমি, ভূমির শিশুরে ফিরে পেল পুন ভূমি।