রূপনারানের কূলে জেগে উঠিলাম, জানিলাম এ জগৎ স্বপ্ন নয়। রক্তের অক্ষরে দেখিলাম আপনার রূপ, চিনিলাম আপনারে আঘাতে আঘাতে বেদনায় বেদনায়; সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা। আমৃত্যুর দুঃখের তপস্যা এ জীবন, সত্যের দারুণ মূল্য লাভ করিবারে, মৃত্যুতে সকল দেনা শোধ করে দিতে।
ওগো সুখী প্রাণ, তোমাদের এই ভব-উৎসব-ঘরে অচেনা অজানা পাগল অতিথি এসেছিল ক্ষণতরে। ক্ষণেকের তরে বিস্ময়-ভরে চেয়েছিল চারি দিকে বেদনা-বাসনা-ব্যাকুলতা-ভরা তৃষাতুর অনিমিখে। উৎসববেশ ছিল না তাহার, কন্ঠে ছিল না মালা, কেশপাশ দিয়ে বাহিরিতেছিল দীপ্ত অনলজ্বালা। তোমাদের হাসি তোমাদের গান থেমে গেল তারে দেখে, শুধালে না কেহ পরিচয় তার, বসালে না কেহ ডেকে। কী বলিতে গিয়ে বলিল না আর, দাঁড়ায়ে রহিল দ্বারে-- দীপালোক হতে বাহিরিয়া গেল বাহির-অন্ধকারে। তার পরে কেহ জান কি তোমরা কী হইল তার শেষে? কোন্ দেশ হতে এসে চলে গেল কোন্ গৃহহীন দেশে!