কূল থেকে মোর গানের তরী দিলেম খুলে-- সাগর-মাঝে ভাসিয়ে দিলেম পালটি তুলে। যেখানে ওই কোকিল ডাকে ছায়াতলে-- সেখানে নয়। যেখানে ওই গ্রামের বধূ আসে জলে-- সেখানে নয়। যেখানে নীল মরণলীলা উঠছে দুলে সেখানে মোর গানের তরী দিলেম খুলে। এবার, বীণা, তোমায় আমায় আমরা একা। অন্ধকারে নাই বা কারে গেল দেখা। কুঞ্জবনের শাখা হতে যে ফুল তোলে সে ফুল এ নয়। বাতায়নের লতা হতে যে ফুল দোলে সে ফুল এ নয়। দিশাহারা আকাশভরা সুরের ফুলে সেই দিকে মোর গানের তরী দিলেম খুলে।
তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে সব গাছ ছাড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে। মনে সাধ, কালো মেঘ ফুঁড়ে যায় একেবারে উড়ে যায়; কোথা পাবে পাখা সে? তাই তো সে ঠিক তার মাথাতে গোল গোল পাতাতে ইচ্ছাটি মেলে' তার,-- মনে মনে ভাবে, বুঝি ডানা এই, উড়ে যেতে মানা নেই বাসাখানি ফেলে তার। সারাদিন ঝরঝর থত্থর কাঁপে পাতা-পত্তর, ওড়ে যেন ভাবে ও, মনে মনে আকাশেতে বেড়িয়ে তারাদের এড়িয়ে যেন কোথা যাবে ও। তার পরে হাওয়া যেই নেমে যায়, পাতা-কাঁপা থেমে যায়, ফেরে তার মনটি যেই ভাবে, মা যে হয় মাটি তার ভালো লাগে আরবার পৃথিবীর কোণটি।