গর্ব করে নিই নে ও নাম, জান অন্তর্যামী, আমার মুখে তোমার নাম কি সাজে। যখন সবাই উপহাসে তখন ভাবি আমি আমার কণ্ঠে তোমার নাম কি বাজে। তোমা হতে অনেক দূরে থাকি সে যেন মোর জানতে না রয় বাকি, নামগানের এই ছদ্মবেশে দিই পরিচয় পাছে মনে মনে মরি যে সেই লাজে। অহংকারের মিথ্যা হতে বাঁচাও দয়া করে রাখো আমায় যেথা আমার স্থান। আর-সকলের দৃষ্টি হতে সরিয়ে দিয়ে মোরে করো তোমার নত নয়ন দান। আমার পূজা দয়া পাবার তরে, মান যেন সে না পায় করো ঘরে, নিত্য তোমায় ডাকি আমি ধুলার 'পরে বসে নিত্যনূতন অপরাধের মাঝে।
না গো, এই যে ধুলা আমার না এ, তোমার ধুলার ধরার 'পরে উড়িয়ে যাব সন্ধ্যাবায়ে। দিয়ে মাটি আগুন জ্বালি' রচলে দেহ পূজার থালি, শেষ আরতি সারা করে ভেঙে যাব তোমার পায়ে।
ফুল যা ছিল পূজার তরে, যেতে পথে ডালি হতে অনেক যে তার গেছে পড়ে। কত প্রদীপ এই থালাতে সাজিয়েছিলে আপন হাতে, কত যে তার নিবল হাওয়ায়-- পৌঁছোল না চরণ-ছায়ে।
আমার চিত্ত তোমায় নিত্য হবে সত্য হবে-- ওগো সত্য,আমার এমন সুদিন ঘটবে কবে। সত্য সত্য সত্য জপি, সকল বুদ্ধি সত্যে সঁপি, সীমার বাঁধন পেরিয়ে যাব নিখিল ভবে, সত্য, তোমার পূর্ণ প্রকাশ দেখব কবে। তোমায় দূরে সরিয়ে, মরি আপন অসত্যে। কী যে কাণ্ড করি গো সেই ভূতের রাজত্বে। আমার আমি ধুয়ে মুছে তোমার মধ্যে যাবে ঘুচে, সত্য, তোমায় সত্য হব বাঁচব তবে, তোমার মধ্যে মরণ আমার মরবে কবে।