এই লেখনগুলি সুরু হয়েছিল চীনে জাপানে। পাখায় কাগজে রুমালে কিছু লিখে দেবার জন্যে লোকের অনুরোধে এর উৎপত্তি। তারপরে স্বদেশে ও অন্য দেশেও তাগিদ পেয়েছি। এমনি ক'রে এই টুকরো লেখাগুলি জমে উঠ্ল। এর প্রধান মূল্য হাতের অক্ষরে ব্যক্তিগত পরিচয়ের । সে পরিচয় কেবল অক্ষরে কেন, দ্রুতলিখিত ভাবের মধ্যেও ধরা পড়ে। ছাপার অক্ষরে সেই ব্যক্তিগত সংস্রবটি নষ্ট হয়-- সে অবস্থায় এই সব লেখা বাতি-নেবা চীন লণ্ঠনের মতো হাল্কা ও ব্যর্থ হতে পারে। তাই জর্ম্মনিতে হাতের অক্ষর ছাপবার উপায় আছে খবর পেয়ে লেখনগুলি ছাপিয়ে নেওয়া গেল। অন্যমনস্কতায় কাটাকুটি ভুলচুক ঘটেছে। সে সব ত্রুটিতেও ব্যক্তিগত পরিচয়েরই আভাস রয়ে গেল॥ শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
তোমার আমার মাঝে ঘন হল কাঁটার বেড়া এ কখন সহসা রাতারাতি-- স্বদেশের অশ্রুজলে তারেই কি তুলিবে বাড়ায়ে ওরে মূঢ়, ওরে আত্মঘাতী? ওই সর্বনাশটাকে ধর্মের দামেতে কর দামী, ঈশ্বরের কর অপমান-- আঙিনা করিয়া ভাগ দুই পাশে তুমি আর আমি পূজা করি কোন্ শয়তান! ও কাঁটা দলিতে গেলে দুই দিকে ধর্মধ্বজী দলে ধিক্কারিবে তাহে ভয় নাই-- এ পাপ আড়ালখানা উপাড়ি ফেলিব ধূলিতলে, জানিব আমরা দোঁহে ভাই। দুই হাত মেলে নাই এত কাল ধরে তাই বার বার বিধাতার দান ব্যর্থ হল--অবশেষে আশীর্বাদ কাছে এসে অভিশাপে হল অবসান। তবুও মানবদ্রোহে স্পর্ধাভরে সমারোহে চল যদি অন্ধতার পথে, এই কথা জেনে যেয়ো বাঁচাবে যে মূঢ়কেও হেন শক্তি নাই এ জগতে।