ভালোবাসার মূল্য আমায় দু হাত ভরে যতই দেবে বেশি করে, ততই আমার অন্তরের এই গভীর ফাঁকি আপনি ধরা পড়বে না কি। তাহার চেয়ে ঋণের রাশি রিক্ত করি যাই-না নিয়ে শূন্য তরী। বরং রব ক্ষুধার কাতর ভালো সেও, সুধার ভরা হৃদয় তোমার ফিরিয়ে নিয়ে চলে যেয়ো। পাছে আমার আপন ব্যথা মিটাইতে ব্যথা জাগাই তোমার চিতে, পাছে আমার আপন বোঝা লাঘব-তরে চাপাই বোঝা তোমার 'পরে, পাছে আমার একলা প্রাণের ক্ষুব্ধ ডাকে রাত্রে তোমায় জাগিয়ে রাখে, সেই ভয়েতেই মনের কথা কই নে খুলে। ভুলতে যদি পারো তবে সেই ভালো গো, যেয়ো ভুলে। বিজন পথে চলেছিলেম, তুমি এলে মুখে আমার নয়ন মেলে। ভেবেছিলেম বলি তোমায়, "সঙ্গে চলো, আমায় কিছু কথা বলো।' হঠাৎ তোমার মুখে চেয়ে কী কারণে ভয় হল যে আমার মনে। দেখেছিলেম সুপ্ত আগুন লুকিয়ে জ্বলে তোমার প্রাণের নিশীথ রাতের অন্ধকারের গভীর তলে। তপস্বিনী, তোমার তপের শিখাগুলি হঠাৎ যদি জাগিয়ে তুলি, তবে যে সেই দীপ্ত আলোয় আড়াল টুটে দৈন্য আমার উঠিবে ফুটে। হবি হবে তোমার প্রেমের হোমাগ্নিতে এমন কী মোর আছে দিতে। তাই তো আমি বলি তোমায় নতশিরে-- তোমার দেখার স্মৃতি নিয়ে একলা আমি যাব ফিরে।
THE CLOUD laughed at the rainbow saying that it was an upstart gaudy in its emptiness. 'The rainbow calmly answered I am as inevitably real as the sun himself.'
মনে পড়ে, ছেলেবেলায় যে বই পেতুম হাতে ঝুঁকে পড়ে যেতুম পড়ে তাহার পাতে পাতে। কিছু বুঝি, নাই বা কিছু বুঝি, কিছু না হোক পুঁজি, হিসাব কিছু না থাক্ নিয়ে লাভ অথবা ক্ষতি, অল্প তাহার অর্থ ছিল, বাকি তাহার গতি। মনের উপর ঝরনা যেন চলেছে পথ খুঁড়ি, কতক জলের ধারা আবার কতক পাথর নুড়ি। সব জড়িয়ে ক্রমে ক্রমে আপন চলার বেগে পূর্ণ হয়ে নদী ওঠে জেগে। শক্ত সহজ এ সংসারটা যাহার লেখা বই হালকা ক'রে বুঝিয়ে সে দেয় কই। বুঝছি যত খুজছি তত, বুঝছি নে আর ততই-- কিছু বা হাঁ, কিছু বা না, চলছে জীবন স্বতই। কৃত্তিবাসী রামায়ণ সে বটতলাতে ছাপা, দিদিমায়ের বালিশ-তলায় চাপা। আলগা মলিন পাতাগুলি, দাগি তাহার মলাট দিদিমায়ের মতোই যেন বলি-পড়া ললাট। মায়ের ঘরের চৌকাঠেতে বারান্দার এক কোণে দিন-ফুরানো ক্ষীণ আলোতে পড়েছি একমনে। অনেক কথা হয় নি তখন বোঝা, যেটুকু তার বুঝেছিলাম মোট কথাটা সোজা-- ভালোমন্দে লড়াই অনিঃশেষ, প্রকাণ্ড তার ভালোবাসা, প্রচণ্ড তার দ্বেষ। বিপরীতের মল্লযুদ্ধ ইতিহাসের রূপ সামনে এল, রইনু বসে চুপ। শুরু হতে এইটে গেল বোঝা, হয়তো বা এক বাঁধা রাস্তা কোথাও আছে সোজা, যখন-তখন হঠাৎ সে যায় ঠেকে, আন্দাজে যায় ঠিকানাটা বিষম এঁকেবেঁকে। সব-জানা দেশ এ নয় কভু, তাই তো তেপান্তরে রাজপুত্তুর ছোটায় ঘোড়া না-জানা কার তরে। সদাগরের পুত্র সেও যায় অজানার পার খোঁজ নিতে কোন্ সাত-রাজা-ধন গোপন মানিকটার। কোটালপুত্র খোঁজে এমন গুহায়-থাকা চোর যাকে ধরলে সকল চুরির কাটবে বাঁধন-ডোর।