দুঃখ যদি না পাবে তো দুঃখ তোমার ঘুচবে কবে? বিষকে বিষের দাহ দিয়ে দহন করে মারতে হবে। জ্বলতে দে তোর আগুনটারে, ভয় কিছু না করিস তারে, ছাই হয়ে সে নিভবে যখন জ্বলবে না আর কভু তবে। এড়িয়ে তাঁরে পালাস না রে ধরা দিতে হোস না কাতর। দীর্ঘ পথে ছুটে কেবল দীর্ঘ করিস দুঃখটা তোর মরতে মরতে মরণটারে শেষ করে দে একেবারে, তার পরে সেই জীবন এসে আপন আসন আপনি লবে।
কথা ছিল এক-তরীতে কেবল তুমি আমি যাব অকারণে ভেসে কেবল ভেসে, ত্রিভুবনে জানবে না কেউ আমরা তীর্থগামী কোথায় যেতেছি কোন্ দেশে সে কোন্ দেশে। কূলহারা সেই সমুদ্র-মাঝখানে শোনাব গান একলা তোমার কানে, ঢেউয়ের মতন ভাষা-বাঁধন-হারা আমার সেই রাগিণী শুনবে নীরব হেসে। আজো সময় হয় নি কি তার, কাজ কি আছে বাকি। ওগো ওই-যে সন্ধ্যা নামে সাগরতীরে। মলিন আলোয় পাখা মেলে সিন্ধুপারের পাখি আপন কুলায়-মাঝে সবাই এল ফিরে। কখন তুমি আসবে ঘাটের 'পরে বাঁধনটুকু কেটে দেবার তরে। অস্তরবির শেষ আলোটির মতো তরী নিশীথমাঝে যাবে নিরুদ্দেশে।