যাবার দিকের পথিকের 'পরে ক্ষণিকার স্নেহখানি শেষ উপহার করুণ অধরে দিল কানে কানে আনি। "ভুলিব না কভু, রবে মনে মনে' এই মিছে আশা দেয় খনে খনে, ছলছল ছায়া নবীন নয়নে বাধোবাধো মৃদু বাণী। যাবার দিকের পথিক সে কথা ভরি লয় তার প্রাণে। পিছনের এই শেষ আকুলতা পাথেয় বলি সে জানে। যখন আঁধারে ভরিবে সরণী, ভুলে-ভরা ঘুমে নীরব ধরণী, "ভুলিব না কভু,' এই ক্ষীণধ্বনি তখনো বাজিবে কানে। যাবার দিকের পথিক সে বোঝে-- যে যায় সে যায় চ'লে, যারা থাকে তারা এ উহারে খোঁজে, যে যায় তাহারে ভোলে। তবুও নিজেরে ছলিতে ছলিতে বাঁশি বাজে মনে চলিতে চলিতে "ভুলিব না কভু' বিভাসে ললিতে এই কথা বুকে দোলে।
শত শত লোক চলে শত শত পথে। তারি মাঝে কোথা কোন্ রথে সে আসিছে যার আজি নব অভ্যুদয়। দিক্লক্ষ্মী গাহিল না জয়; আজও রাজটিকা ললাটে হল না তার লিখা। নাই অস্ত্র, নাই সৈন্যদল, অস্ফুট তাহার বাণী, কণ্ঠে নাহি বল। সে কি নিজে জানে আসিছে সে কী লাগিয়া, আসে কোন্খানে! যুগের প্রচ্ছন্ন আশা করিছে রচনা তার অভ্যর্থনা কোন্ ভবিষ্যতে-- কোন্ অলক্ষিত পথে আসিতেছে অর্ঘ্যভার! আকাশে ধ্বনিছে বারম্বার-- "মুখ তোলো, আবরণ খোলো হে বিজয়ী, হে নির্ভীক, হে মহাপথিক-- তোমার চরণক্ষেপ পথে পথে দিকে দিকে মুক্তির সংকেতচিহ্ন যাক লিখে লিখে।'