যখন তোমায় আঘাত করি তখন চিনি। শত্রু হয়ে দাঁড়াই যখন লও যে জিনি। এ প্রাণ যত নিজের তরে তোমারি ধন হরণ করে ততই শুধু তোমার কাছে হয় সে ঋণী। উজিয়ে যেতে চাই যতবার গর্বসুখে, তোমার স্রোতের প্রবল পরশ পাই যে বুকে। আলো যখন আলসভরে নিবিয়ে ফেলি আপন ঘরে লক্ষ তারা জ্বালায় তোমার নিশীথিনী।
মা গো, আমায় ছুটি দিতে বল্, সকাল থেকে পড়েছি যে মেলা। এখন আমি তোমার ঘরে ব'সে করব শুধু পড়া-পড়া খেলা। তুমি বলছ দুপুর এখন সবে, নাহয় যেন সত্যি হল তাই, একদিনও কি দুপুরবেলা হলে বিকেল হল মনে করতে নাই? আমি তো বেশ ভাবতে পারি মনে সুয্যি ডুবে গেছে মাঠের শেষে, বাগ্দি-বুড়ি চুবড়ি ভরে নিয়ে শাক তুলেছে পুকুর-ধারে এসে। আঁধার হল মাদার-গাছের তলা, কালি হয়ে এল দিঘির জল, হাটের থেকে সবাই এল ফিরে, মাঠের থেকে এল চাষির দল। মনে কর্-না উঠল সাঁঝের তারা, মনে কর্-না সন্ধে হল যেন। রাতের বেলা দুপুর যদি হয় দুপুর বেলা রাত হবে না কেন।